ঈদে পশ্চিমের যাত্রী টানবে দুই জোড়া ‘স্পেশাল’ ট্রেন

জাতীয় রাজশাহী

বছর ঘুরে ঈদ এলে ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ হয়ে যায়। একটি টিকিটের জন্য অনেকগুলো নির্ঘুম রজনী কাটে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে চাওয়া মানুষদের। কতই না কষ্ট, দুর্ভোগ! শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরতে এই ভোগান্তির যেন অন্ত নেই।

এরপরও ভ্রমণে কমবেশি সবারই নিরাপদ বাহন হচ্ছে ট্রেন। তাই পশ্চিমের যাত্রীদের ঈদ যাত্রা আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

ফলে রেলযাত্রার মর্মযন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমবে এবার। কারণ উৎসবের এই মৌসুমে দুই জোড়া ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চালাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। তাই লাল-সবুজের পাশাপাশি রেলপথ দাপানো ইন্দোনেশিয়ান লাল রেখায় টানা ধবধবে সাদা রেকের কোচগুলো আবারও দেখা যাবে রাজশাহী- ঢাকা ও পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে।

ঈদ স্পেশাল ট্রেনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চিঠি এরইমধ্যে পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিন্টেডেন্ট গোলাম মোস্তফা। ঈদের তিনদিন আগ থেকে ট্রেনগুলো চলাচল শুরু করবে।

জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে। এজন্য পশ্চিম রেলওয়ে দুই জোড়া ট্রেন বরাদ্দ পেয়েছে। সাদা রেকের ইন্দোনেশিয়ান কোচগুলো ‘ঈদ স্পেশাল’ নামে পশ্চিমের যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবে। ১৬ জুন ঈদ ধরে আগামী ১৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এই ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো চলবে। এরপর আবারও ঈদের পর সাতদিন চলবে।

দুই জোড়া ট্রেনের মধ্যে রাজশাহী-ঢাকা রুটে একটি, পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে একটি, খুলনা-ঢাকা রুটে একটি ও লালমনিরহাট-ঢাকা রুটে একটি ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এতে নিয়মিত ট্রেনগুলোতে ভিড় স্বাভাবিক থাকবে এবং সবাই নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদ যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম মোস্তফা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) অসীম কুমার তালুকদার জানান, ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেনটি ১৪ বগি নিয়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলবে। ট্রেনটি ঈদের আগের তিনদিন ও পরের সাতদিন চলাচল করবে। এর মধ্যে সাদা ইন্দোনেশিয়ান রেকের দুইটি এসি এবং ১২টি নন-এসি বগি থাকবে।

তিনি জানান, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী, পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর, খুলনা-ঢাকা-খুলনা ও লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট এই চারটি রুটে ট্রেনগুলো চলাচল করবে।

এর মধ্যে আগামী ১৩ জুন থেকে ঈদের আগের দিন ও ঈদের পরদিন ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত এই ট্রেনগুলো চলাচল করবে। তবে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনটি শুধু ১৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত (তিনদিন) চলাচল করবে।

রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী ঈদ স্পেশাল-৪ ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর দেড়টায়। ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা ঈদ স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসবে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে। ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছাবে রাত সাড়ে তিনটার দিকে।

পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-২ ট্রেনটি পার্বতীপুর স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর সোয়া একটায়। ঢাকা-পার্বতীপুর-ঢাকা ঈদ স্পেশাল-১ ট্রেনটি ঢাকা স্টেশন ছাড়বে রাত সাড়ে দশটায়। খুলনা-ঢাকা-খুলনা ঈদ স্পেশাল-৭ ট্রেনটি খুলনা স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর দুইটা ৪০ মিনিটে।

ঢাকা-খুলনা-ঢাকা ঈদ স্পেশাল-৮ ট্রেনটি ঢাকা স্টেশন ছাড়বে রাত ১২টা পাঁচ মিনিটে।

লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল-৬ ট্রেনটি লালমনিরহাট স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে রাত সাড়ে ৯টায়। ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা ঈদ স্পেশান-৫ ট্রেনটি ঢাকা স্টেশন ছাড়বে সকাল সোয়া ৯টায়। এছাড়া রাজশাহী-ঢাকা রুটের পদ্মা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো আগের নিয়মানুযায়ী চলাচল করবে। তবে ঈদের পাঁচদিন আগে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদের ১০ দিন আগে থেকে এই ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ঈদের ১০ দিন আগে ফেরত টিকিটও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মজিবর রহমান জানান, এবারের ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষ আর ঈদের পর কর্মস্থলমুখী মানুষের জন্য রাজশাহী-ঢাকা রুটসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরও তিনটি রুটে বাড়তি ট্রেন থাকায় যাত্রাপথের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ঈদে যাত্রী হয়রানি বন্ধে রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। টিকিট বিক্রিতে যেন কোনো সমস্যা না হয় এজন্য আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।

এছাড়া রেল ভ্রমণ নিরাপদ করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। যা ব্যবস্থা আছে তা দিয়ে শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। আর ট্রেনের সূচিতে যাতে কোনো বিপর্যয় না ঘটে, সেদিকে তারা বাড়তি নজর রাখছেন বলেও জানান মহাব্যবস্থাপক।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪