রাজশাহীতে জারি ৮ ঘণ্টার নৈশ কারফিউ প্রত্যাহার

রাজশাহী

একাত্তরের ১০ মার্চ পুরো বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছিল জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে। তার নির্দেশে সারাদেশে সরকারি ও আধাসরকারি অফিসের কর্মচারীরা কাজে যোগদানে বিরত থাকেন। তবে বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও ব্যবসা কেন্দ্র খোলা থাকে।

ঘরে ঘরে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে। সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসায় ও শিৰা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে কালো পতাকা ওড়ে। এমনকি রাজারবাগ পুলিশ লাইন, থানা ও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনেও কালো পতাকা উত্তোলিত হয়। সরকারি ও ব্যক্তিগত যানবাহনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর গাড়ি-জিপগুলোও কালো পতাকা লাগিয়ে রাজপথে চলাচল করে।

সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলখানা ভেঙে ৪০ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। জেল পালানোর সময় কারারৰী ও কয়েদিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ২৭ জন আহত হন। রাতে সামরিক কর্তৃপৰ আগের দিন রাজশাহী শহরে অনির্দিষ্টকালের জারি করা ৮ ঘণ্টার নৈশ কারফিউ প্রত্যাহার করে নেয়।

সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাসভবনে একদল বিদেশি সাংবাদিকের কাছে বলেন, ৭ কোটি বাঙালি আজ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। যেকোন মূল্যে তারা এ অধিকার আদায়ে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাঙালিরা অনেক রক্ত দিয়েছে। এবার আমরা রক্ত দেয়ার পালা শেষ করতে চাই। স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক বিবৃতিতে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি পাকিস্তানি ঔপনিবেশবাদী সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে নিয়োজিত প্রতিটি মুক্তিসেনাকে সব ধরনের সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

খবরঃ Sonali Sangbad