অপার সৌন্দর্যে দৃপ্তমান রাবির ‘প্যারিস রোড’

0

সুউচ্চ গগণ শিরীষের চিরল পাতায় সূর্য-রশ্মির খেলা ছায়া হয়ে ধরা দেয় রাস্তার উপর। অগনিত জুটির প্রেমের স্বাক্ষী সেই রাস্তা। নীল আকাশ ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়া ৩০-৪০ মিটার উঁচু গাছগুলো যেন ঘোষণা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিমা। বলছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা মোড় থেকে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক হল পর্যন্ত দীর্ঘ ‘প্যারিস রোড’র কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে কিছুটা সামনের দিকে এগুলেই বামদিকে চোখে পড়ে সুবিস্তৃত একটা সড়ক। সড়কের দুধারে সুউচ্চ গগণ-শিরিশ গাছ মুড়িয়ে রেখেছে রাস্তাটিকে। কালের আবর্তে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়ানো এ রাস্তার নামকরণ নিয়ে রয়েছে এক ইতিহাস।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালের দিকে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য এগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে। তিনি এই রাস্তাটিকেই বেছে নেন এবং রাস্তার দুই পাশে গাছগুলো লাগিয়ে দেন। গাছ আনা হলো ফিলিপাইন থেকে তবুও নাম কেন প্যারিস রোড?

এমন প্রশ্নের উত্তরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাদির উজ্জামানের নেতৃত্বে গাছগুলো লাগানো হয়, যা এখন দৃষ্টিনন্দনে পরিণত হয়েছে। রাস্তাটির সঙ্গে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তাগুলোর অনেকটা মিল খুঁজে পেয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটিকে প্যারিস রোড বলতে থাকেন। সেই থেকে রাস্তাটি ‘প্যারিস রোড’ নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। আর এখন এই রাস্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের আড্ডারও অন্যতম স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বিষয়ে সদ্য পাশ করা গনিত বিভাগের ¯্নাতোকত্তরের শিক্ষার্থী বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই রোডেই আমার আমার প্রেমের সূচনা হয় । গত পাচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু প্যারিস রোডের মত আমাকে ভালো লাগেনা।’ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘প্রিয়জনের সঙ্গে এই রাস্তায় হাঁটলে অনেক আনন্দ হয়। বৃষ্টির দিন হলে তো কোন কথাই নেই।’

শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যেও এই রোড হয়ে উঠেছে একটি প্রাণের জায়গা। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে রাস্তাটির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। তবে ক্যামেরাবন্দি হয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে কেউই ভুলেন না।

তবে অসাধারণ সৌন্দর্য্যমন্ডিত এই রাস্তার দুপাশের গাছগুলো যেন এখন অনেকটাই শঙ্কিত। নতুন বাগান গড়ার অযুহাতে এরইমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের গাছগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেরই ধারণা যেকোন মুহুর্তে কাটা হতে পারে বাকি গাছগুলোও। তবে প্রাকৃতিক ঝড় ঝাপ্টায় কিছুটা অঙ্গহানি হলেও এখনও সগর্বে দাড়িয়ে প্যারিস রোডের গগণ শিরীষ গাছগুলো।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

Share.



Comments are closed.

Open