গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে মহোৎসব শুরু

0

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ঐতিহ্যবাহী খেতুরীধামে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি মহোৎসব।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার খেতুর গ্রামে অবস্থিত এ ধামে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় উৎসবের। সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সকাল থেকেই ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে খেতুরীধাম। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) অরুণোদয় থেকে অষ্ট প্রহরব্যাপী চলবে সেখানে তারক ব্রক্ষ্মনাম সংকীর্ত্তন।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) প্রথম প্রহরে দধিমঙ্গল, দ্বি-প্রহরে ভোগ আরতি ও মহান্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ জানান, এবারের উৎসবকে ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সী জানান, খেতুরীধাম ও মেলাকে ঘিরে ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিন স্তরে ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। খোলা হয়েছে দুটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

নরোত্তম ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে জানা যায়, ১৫৩১ খ্রীষ্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস তৎকালীন গড়েরহাট পরগণার অন্তর্গত বর্তমান গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জমিদার কৃষ্ণনন্দ দাস, মা নারায়নী রাণী। গোপলপুরে শৈশব অতিবাহিত করে ঠাকুর নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে দীক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি খেতুরে ফিরে আসেন। খেতুর মন্দিরে গড়ে তোলেন স্থাপনা। এরপর তিনিই প্রথমে এখানে এ উৎসবের আয়োজন করেন।

তার জীবনাবসানের পর অহিংসার এই সাধকের কৃপা লাভের আশায় ভক্তারা খেতুরীধামে বছরে একবার মিলিত হন।

খবরঃ বাংলানিউজ

Share.



Comments are closed.

Open