রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সেই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

0

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধরের অভিযোগে কলেজের শেষ বর্ষের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

রাজশাহী নগরের নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ অক্টোবর রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন। তিনি বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি জেলার বাঘা উপজেলার কুশাবাড়িয়া গ্রামে।
মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র লুৎফর রহমানকে। তাঁর বাবার নাম আবদুল জলিল। বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। তাঁর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, বাদী জ্বর ও পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন। আসামি লুৎফর ভালো চিকিৎসার কথা বলে তাঁর কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে লুৎফর বাদীর ভর্তির কাগজপত্র নিয়ে এদিক-সেদিক যাওয়া-আসা করেন। কিছুক্ষণ পর এসে বলেন, অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। এ জন্য আরও ৫ হাজার টাকা লাগবে। রাত পৌনে ১২টার দিকে লুৎফর আবার এসে বলেন, অস্ত্রোপচারের সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। টাকা লাগবে। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে লুৎফর বাদীকে উচ্চ স্বরে গালাগাল শুরু করেন। তখন আশপাশের রোগীরা এগিয়ে এলে তিনি চলে যান। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ১০-১২ জন লোক নিয়ে আসেন লুৎফর। তাঁদের হাতে চাকু ও হাতুড়ি ছিল। লুৎফরের নির্দেশে তাঁর লোকজন বাদীকে থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। লুৎফর আঘাত করেন হাতুড়ি দিয়ে। চিৎকার শুনে অন্য রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা এগিয়ে এলে লুৎফর বাদীর মুঠোফোন নিয়ে তাতে তাঁর (আসামি) মুঠোফোন নম্বর তুলে দিয়ে পরের দিন ৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। নইলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
গুরুতর আহত মাইনুলকে রাতেই পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

আসামি লুৎফর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পরিচালকের কাছেও তাঁরা (বাদী পক্ষ) অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। মামলার ব্যাপারটি তিনি শোনেননি।

খবরঃ প্রথম-আলো

Share.



Comments are closed.

Open