রামেকে অধ্যক্ষ পদ শূন্য কাজে স্থবিরতা

0

অধ্যক্ষ পদ শূণ্য রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)। এতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এদিকে, অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য রামেকসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সরকার দলীয় অর্ধডজন ডাক্তার কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করলেও কারো কাঙ্খিত যোগ্যতা, আবার কারো প্রশাসনিক দক্ষতার অভাবে খালি হাতে ফিরে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি পূরণে দেরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। তবে ‘কে হচ্ছেন রামেক’র পরবর্তী অধ্যক্ষ?’ এ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।

রামেক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর অবসরে যান অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিব। তারপর থেকে শূণ্য আছে অধ্যক্ষের এ পদটি। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূণ্য থাকায় স্থবির রয়েছে অনেক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ । নিয়মানুযায়ী ডিন’র দায়িত্ব পালন করেন কলেজের অধ্যক্ষ। তাই ডিন না থাকায় এবারের ২য় প্রফেসনাল এমবিবিএস’র ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। এ সুযোগে সরকার দলীয় নামধারী কিছু ছাত্র প্রশাসনিক শৃঙ্খলা না মেনে উপাধ্যক্ষকে চাপ দিয়ে টেবুলেশন শীট থেকে রেজাল্ট নিয়ে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়। আর এতে বিব্রত হচ্ছেন শিক্ষকরা। সূত্র আরো জানায়, অনেক শিক্ষক এখন আর সময় মত কলেজে আসেননা। এছাড়া ডিডিওশীপ পাওয়ার না থাকায় অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলছে এ কলেজে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের এ মাসের বেতন-ভাতা না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আর একাডেমিক স্থবিরতা চলছে রামেকে।

এদিকে, অধ্যক্ষর পদ পেতে রামেক’র উপাধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী ও ফার্মাকোলজির প্রফেসর আনোয়ার হাবিব, বগুড়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আহসান হাবিব ও এ্যানাটমির প্রফেসর ওয়ালি, পাবনা মেডিকেল কলেজের এ্যানাটমির প্রফেসর টিংকুসহ অর্ধডজন ডাক্তার দৌড়ঝাঁপ করছেন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এদের মধ্যে কারো কাঙ্খিত যোগ্যতা আবার কারো প্রশাসনিক দক্ষতা না থাকার কারণে তারা হালে পানি পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অন্য একটি সূত্র জানায়, রামেক’র সদ্য অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিব আবেদন করেছেন এক্সটেনসন’র জন্য। ওই সূত্রের দাবি এখন পর্যন্ত তিনিই নাকি দৌড়ে এগিয়ে। কারণ তার রয়েছে প্রশাসনিক দক্ষতা। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, গবেষণা কার্যক্রমচালুসহ কলেজে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেন তিনি। একাডেমি কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বর্ষবরণ, বসন্ত বরণসহ বাঙালির বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান আড়ম্বরভাবে উদযাপন, মেধাবী শিক্ষার্থী ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের পুরুস্কৃত করা, মুক্তিযোদ্ধা পাঠাগার ও ডিবেট ক্লাব উদ্বোধন, আইটি সিস্টেম উন্নত করণসহ, সব রকমের সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম’র ব্যবস্থা করেন অধ্যক্ষ মাসুম হাবিব। ইন্টার মেডিকেল ডিবেট’র সফল আয়োজনসহ তার সময়ে দীর্ঘ এক যুগ পর জাতীয় টেলিভিশন ডিবেটে রানার আপ হয় রামেক। এর আগে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রফেসর মাসুম হাবিব’র। তাই সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রের মতে, মাসুম হাবিবের মত একনিষ্ঠ ও দক্ষ একজন অধ্যক্ষ’র প্রয়োজন রামেকে। রামেকের নাকি বাইরের কেউ অধ্যক্ষ হচ্ছেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে গুঞ্জন। তবে যেই হোকনা কেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্থবিরতা দূর করতে রামেকে শীঘ্রই অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ বিষয়ে রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. নওশাদ বলেন, অধ্যক্ষ না থাকায় অর্থনৈতিক কাজে অসুবিধা হচ্ছে। তবে দাপ্তরিক কাজ চলছে। আমরা মন্ত্রি মহোদয়কে বিষয়টি বলেছি। আশা করছি এ সপ্তাহে অধ্যক্ষ নিয়োগ হয়ে যাবে।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

Share.



Comments are closed.