রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন, তাপমাত্রায় জেঁকে বসেছে শীত

0

পৌষের শেষে রাজশাহী অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীতের তীব্রতা। রোববার মৌসুমের সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো রাজশাহীতে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ি, রাজশাহীতে রোববার সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটি এআরের
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্দিণ চলছে ছিন্নমূল মানুষের। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। রামেক হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীদের সংখ্যা। এদের মধ্যে শিশু ও বসস্কদের সংখ্যা বেশী।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা রবিবার রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এরআগে শনিবার রাজশাহীতে সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো সকালে ১৬ দশকি ৭ ডিগ্রী এবং বিকেলে ছিলো ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আগামী কদিন এ অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেতে পারে এমন আভাস দিয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায় সর্বোচ্চ ও সর্বোনি¤্ন তাপমাত্রা অনেকটা কাছাকাছি অবস্থান করায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারনেও বেশী শীত অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে কদিন ধরেই রাজশাহী অঞ্চলে বেলা ১২ টার আগ পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পুরো অঞ্চল। সকাল গড়িয়ে বেলা ১২ টার দিকে সামান্য সময়ের জন্য সূর্য কিরণ ছড়ালেও বেলা ৩ টার পর থেকে ফের কুয়াশায় মিশে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলে চরম বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে কস্টে রয়েছে দিনমজুর ও ছিন্নমুল মানুষ। রবিবার ভোরে অনেককে দেখা গেছে খড়কুটা জালিয়ে শীত নিবারন করছেন। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা শীত বস্ত্র বিতরণ শুরু করলেও পরিমানে অপ্রতুল হওয়ায় ছিন্নমুল অনেকের ভাগ্যে জুটছেনা।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, বাড়ছে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগ বালাই। শিশুদের এ জাতীয় রোগ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগ বিশেষত শ্বাসকষ্ট, নিউমনিয়া, টাইফয়েড ও ডায়ারিয়া আক্রান্ত হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সানাউল হক জানান, হাসপাতালে শিশুদের ওয়ার্ড ১০, ২৪,২৬ এবং ২৭-এ মোট বেডের সংখ্যা ৩৫০টি। এই ওয়ার্ডগুলোতে রোগী থাকছে ১৬০০ থেকে ১৭০০ জন। সংখ্যায় বেশী রোগি আসায় বেড দেয়া যাচ্ছেনা। তিনি জানান এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে নবজাতকদের নিয়ে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সহকারি আশরাফুল আলম বলেন, বছরে শীতের সময় কমে যাচ্ছে। জানুয়ারির প্রথম ধাপে শীত কেবল পড়তে শুরু করেছে। দিনে-রাতে সর্বেচ্চ এবং সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা কমে আসলে শীতের অনুভূতি বাড়বে। সামনে কয়েকটি শৈত প্রবাহ আসছে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

Share.



Comments are closed.

Open