গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শীত বাড়িয়েছে রাজশাহীতে

10

পৌষের শেষ বেলায় রাজশাহীতে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত। এর ওপর মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে দ্বিগুণ।

আকাশে মেঘ থাকায় দুপুর ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে নগরজীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ছন্দপতন ঘটেছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুরসহ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়ায় সকালে স্কুলগামী শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের বেগ পেতে হয়েছে। বৃষ্টির জন্য সকাল থেকে রাজশাহী কলেজ মাঠের উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় কমেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, রাজশাহীতে গত সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা নামতে থাকে। তবে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্য ওঠানামা করছে। এর মধ্যে কেবল গত ৮ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন।

আশরাফুল আলম জানান, ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা বেশি নিচে নামেনি। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় রাজশাহীতে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং দুপুর ১২টায় ৯৯ শতাংশ।

এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রাজশাহীসহ উত্তারাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকে দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদিনই এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির পর আকাশে মেঘ কেটে গেলে মাঝারি কুয়াশা পড়বে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে শীতের দাপট বাড়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। ঠাণ্ডা, জ্বর-সর্দী, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ নিয়ে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন বেশিরভাগ রোগী।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক (ইএমও) ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ  জানান, ঠাণ্ডা বাড়লে রোগী বাড়ে এটাই স্বাভাবিক। তবে রেজিস্টার দেখা ছাড়া সকাল থেকে ঠিক কতো রোগী ভর্তি হয়েছেন তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু শিশু রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে বলে জানান জরুরি বিভাগের এ চিকিৎসক।

খবরঃ বাংলানিউজ

Share.



10 Comments

  1. Choyon Khan

    গুরি গুরি বৃস্টির ফলে ঠান্ডার চেয়ে রাতে কুয়াসা দেখি বেড়ে গেছে 😂