রাজশাহীর বাজারে ‘কৃত্রিম’ মুরগির ডিম বিক্রি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি!

0

বাজারে কৃত্রিম মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদে নকল এসব ডিম মহানগরীর পাড়া-মহলৱার দোকানে দোকানে দেদারসে বিক্রি করছে জানানো হয়েছে। তারা দাবি করছেন, বাজার থেকে তারাও এসব ডিম কিনে আনছেন। তবে কোথায় তা তৈরি হয় সে বিষয়ে তারা কিছুই বলতে পারেনি।

এসব নকল ডিম চীন ও ভারত থেকে আসছে ঐ সংবাদে জানানো হয়েছে। এতে কিছু নকল ডিম উৎপাদন হচ্ছে পাশের জেলা নাটোরে এবং তা রাজশাহীর বাজারে আসছে ও এসব ডিম খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন জানানো হয়েছে। আবার এ কারণে দোকানীরাও মাঝে মাঝে পড়ছেন ক্রেতাদের তোপের মুখে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.জুলফিকার আখতার হোসেন বলেন, এদেশে কৃত্রিম মুরগির ডিম কেউ তৈরি করবে তা মনে হয় না। কৃত্রিম মুরগির ডিম তৈরি করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একটি কৃত্রিম মুরগির ডিম তৈরি করতে খরচ পড়বে একশ’ টাকার অধিক। তাই আমার মনে হয় না যে এই ব্যয় বহন করে কৃত্রিম মুরগির ডিম তৈরি করবে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি ডিমের কুসুম তৈরি করতে লাগে ৩৩% ক্যাট নাইকো প্রটিন ও ভিটামিন। আর সাদা অংশটিতে আছে সম্পূর্ণ প্রটিন। আর খোসা হচ্ছে সম্পূর্ণ ক্যালসিয়ামের যোগ। আর খোসার নিচের অংশটি তৈরি করা আরো কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এতে থাকে ইনার সেল মেমব্রেন আর আউটার সেল মেমব্রেন। যা দিয়ে কৃত্রিম ডিম তৈরি খুবই কঠিন। তাই যদি এধরনের কেউ ডিমের সন্ধন পেলে রাজশাহী প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করার আহবান জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ডিম ফোটানোর জন্য হ্যাচারিতে বসানো হয়। এতে অনেক ডিম হ্যাচারি থেকে তুলে বাজারে ছাড়া হয়। এতে ঐ ডিমের একেবারে নষ্ট না হলেও তার সাদা অংশটি পাতলা হয়ে যায়। তাতে কোন ডিমের গন্ধ থাকে না। বাজারে যাকে নকল বা কৃত্রিম ডিম বলা হচ্ছে তা হ্যাচারির ডিম কি না।

অপর দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পৱাস্টিকের এসব নকল ডিম তৈরিতে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এসব ডিম খেলে শরীরে ক্যান্সারসহ নানা রোগ তৈরি করতে পারে। এছাড়া রাসায়নিক ক্রিয়ায় শরীরের অঙ্গহানিসহ বিষক্রিয়ায় মৃত্যুও হতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপূর্ব অধিকারী বলেন, নগরীতে কৃত্রিম ডিমের বেচাকেনার ব্যাপারে তারাও অভিযোগ পেয়েছেন। তারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি এ ধরনের ডিম পেলে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করার কথা বলেন।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

Share.



Comments are closed.

Open