রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভাগাড়ই সিটি পশুহাট!

0

‘পরিচ্ছন্ন’ হিসেবে খ্যাত হলেও রাজশাহী নগরীর বর্জ্যে এখন দূষিত হয়ে উঠেছে নগরীর সিটি বাইপাস এলাকা। আর সিটি করপোরেশনের অসহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার রাজস্বের এই হাট এখন ডাষ্টবিনে রুপ নিয়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলছে পশু কেনা-বেচা। রাসিক কর্মকর্তা বলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভাগাড়েই পশুহাটটি আছে।

সিটি বাইপাস ঘেঁষে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুরহাট এখন একাকার রাসিকের দূষিত বর্জ্য। দেখে মনে হবে পুরো হাট এখন পরিণত হয়েছে দূষিত বর্জ্যের ভাগাড়ে। এমনকি হাটের প্রবেশমুখসহ পুরো রাস্তায় রাসিকের বর্জ্যে ভরপুর। দেখে যে কারও মনে হবে এতদিনের সমৃদ্ধশালী এই পশুহাটটি ধবংস হতে চলেছে।

শহর পরিচ্ছন্ন থাকলেও অদূরেই দূষিত পরিবেশের কারণে ক্ষুব্ধ এখন এলাকাবাসী। শহরে আধুনিক বর্জ্য ফেলার স্থান থাকলেও সেখান থেকে নিয়ে টনে টনে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সিটি বাইপাস সড়কে। ফলে নগরীর পাশ ঘেঁষে নির্মিত বাইপাস সড়ক আর সিটি পশুহাট এখন হয়ে উঠেছে নর্দমার পাহাড়। রাসিক কর্তৃপক্ষের দাবি ক্রেনড্রেজার মেশিন অকেজো থাকার পরেও যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে বর্জ্য অপসারনের।

মঙ্গলবার সরেজমিন হাটে দেখা যায়, সর্বত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সড়কের একপাশে রাসিকের বর্জ্য ফেলার ভাগাড় হলেও বর্জ্যে একাকার হয়ে গেছে পুরো সড়ক। এমনকি পশুহাটের অফিস ঘর পর্যন্ত বর্জ্য আবর্জনায় ভর্তি হয়ে রয়েছে। হাটের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনও ভরে গেছে দূষিত বর্জ্যে। ভাগাড় থেকে পশুহাট ও মহাসড়কে উঠে এসেছে বর্জ্য। বর্জ্য খেয়ে মারা গেছে কয়েকটি কুকুরও। মরে আছে কাকও। সেখানে যোগ হয়েছে বেসরকারী ক্লিনিকগুলোর বর্জ্য। আবর্জনার দূষিত গন্ধে এখন ওই এলাকায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিহাটের এক পাহারাদার বলেন, কোন কোন সময়ে এসব ক্লিনিকের মরা শিশুও ফেলে রেখে যায়। এসব মরা পশুপাখি ও বর্জ্যের বিশ্রি গন্ধে এলাকা দূষিত হয়ে উঠেছে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা তো বটেই ওই এলাকার বাসিন্দারাও গন্ধে টিকতে পারছে না।

জানা গেছে, নগরীর সব বর্জ্য হাটের পাশের ভাগাড়ে ফেলা হলেও উপচে চলে এসেছে সড়কে। হাটের মধ্যে কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাসিক কর্তৃপক্ষ হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নাগরিক সেবার কোন নাম নেই। মূল শহর পরিচ্ছন্ন রাখলেও শহরের মধ্যেই চরম পরিবেশ দূষণ করছে খোদ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

পশুহাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, কোটি কোটি টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নেয়া হয়েছে। রাসিক কর্তৃপক্ষের অব্যস্থাপনায় ও অসহযোগিতায় অসহনীয় দর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে। বর্জ্যরে দূর্গন্ধে হাটে টিকে থাকা এবং আবর্জনা মিশ্রিত কাদা-মাটিতে চলাফেরা করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা কমে যাওয়ার আশংকা করেন তিনি।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মাদ মামুন (ডলার) বলেন, মুলত: রাসিকের বর্জ্য ফেলা ভাগাড়ের উপরে সিটি পশুহাট। এরপরেও আমরা বর্জ্য অপসারনে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। গাড়ি ভিতরে ঢুকতে পারছেনা। তাই রাস্তার ওপরই গাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

Share.



Comments are closed.

Open