অনলাইনে আয়ের অনেক পথ, জেনে নিন আপনার জন্য কোনটি

তথ্য প্রযুক্তি

ব্লগিং করে আয় :

বর্তমানে অনেকের মাঝেই একটা চিন্তা ডুকে গেছে যে ব্লগিং করে আয় বা নিজের সাইট থেকে আয়। হ্যা, আপনি এই পথে সফল হতে পারবেন তবে আপনার বিফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনি যদি একটি ব্লগ সাইট খুলে সারাদিন কপিপেস্ট করে থাকেন তবে আপনি বিফল হবে এটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত। আপনাকে ব্লগিং করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। কিছু উদাহারণ দেখতে চাইলে আপনি ১ম শ্রেণির ইংরেজি ব্লগগুলো দেখতে পারেন। তাদের লেখার ভেতরে রয়েছে আপনাকে বুঝানোর অনেক ক্ষমতা। তারা কখনোও আপনাকে ভূল শেখাবে না বা রিফারেল করার জন্য কোন খারাপ সাইটকে ভালো বলবে না। আপনি যদি নিজেই কিছু না জানেন বা না পারেন তবে আপনি আরেকজনকে কি শিখাবেন একটু ভেবে দেখুন। আপনি তখনই সফল হবেন যখন আপনি নিজে কোন বিষয় ভালোভাবে জানবেন। আমি নিজে কোন সমস্যায় পড়লে সবার আগে ইংরেজি ব্লগ সাইটগুলো দেখি। কারণ তারা আমাকে ভূল তথ্য দিবে না।

আয়ের সঠিক পথগুলো :

বর্তমানে বিভিন্ন ব্লগ সাইটগুলোতে পিটিসি, পিপিডি সাইটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে নতুন অনেকেই ভূল পথে অযথা অনেক পরিশ্রম করছে। ভালো এবং সঠিক পথগুলো সম্পর্কে আপনি জানতে চাইলে মার্কেটপ্লেসগুলোর ক্যাটগরিগুলো দেখুন। তাদের কাজের প্রথম দিকের কয়েকটি বিষয় হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপ, ওয়েব অ্যাপস ডেভেলপ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, পোগ্রামিং ইত্যাদি। আমি এখানে ডাটা এন্টিকে বাদ দিচ্ছি। কারণ মার্কেটপ্লেসগুলোতে ডাটা এন্টি কাজের উপরে অনেক বেশি বিড হয়। কারণ এ বিষয়ে কাজ করতে হলে পোগ্রামিং জ্ঞান লাগে না। আর এ ক্যাটগরিতে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

ইংরেজীতে দক্ষতা :

অনলাইন সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজীতে অনেক দক্ষ হতে হবে। এখানে বাংলা ভাষায় কোন কাজ হবে না। কারণ সকল ক্লাইন্টই অন্য দেশের। আপনাকে এখানে ইংরেজীতে কথা বলতে হবে, তাদের সাথে আপনার ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। আর ইংরেজীতে দক্ষ হতে হলে আপনাকে সবসময় এর প্রাক্টিজ করতে হবে। এখানে আপনি চিন্তাও করবেন ইংরেজীতে। সাধারণ কোন স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করেই আপনি ইংরেজীতে দক্ষ হতে পারবেন না। আপনাকে প্রচুর অনুশীন করতে হবে। আর আপনি যদি ইংরেজীতে দক্ষ হোন তবে আপনি তাদের সাথে ভালো ভাবে কথা বলতে পারবেন, কাজগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কোন কিছু আপনি ভালো ভাবে শিখতে পারবেন। এক কথাই বলা যায় ইংরেজী হবে আপনার সফলতার চাবিকাঠি।

কোথা থেকে শিখবেন কাজ :

আপনি চাইলে নিজেই অনলাইন থেকে কাজ শিখতে পারবেন। আপনি ইউটিউব থেকে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে অনেক ভালো বুঝতে পারবেন। আর এমন কোন বিষয় নেই যার উপরে ইউটিউবে কোন ভিডিও নেই। আপনি প্রথম শ্রেণির ইংরেজী ব্লগগুলো দেখতে পারেন। এখানে অনেক সুন্দর করে প্রতিটি বিষয় উপাস্থাপন করা থাকে। আর আপনি ওয়েব পোগ্রামিং যেমন: html, php, css, javascript এগুলো শেখার জন্য w3school ফলো করতে পারেন। w3school এর অফলাইন ভার্সন নিয়ে টেকটিউনসে আগে অনেকেই টিউন করেছেন। আপনি সার্চ করে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আর এখানের সকল বিষয়ই ইংরেজীতে লেখা। ভালো কিছু শিখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজী শিখতে হবে।
প্রায় ২ বছর আগে আমি প্রথম পত্রিকায় আউটসোর্সিং দেখে তৎকালীন ওডেস্কে প্রচুর বিড করেছিলাম। যাকে স্প্যাম করাও বলা যেতে পারে। যখন আমি খেয়াল করে দেখলাম যে আমি কাজ পারি না অথচ অযথা বিড করেই যাচ্ছি, তখন আমি কাজ শেখার প্রতি নিজে মনযোগ দিই। এরপরে আর একবছর আমি কোন মার্কেটপ্লেসে না ঘুরে শুধু কাজ শেখায় মন দিয়েছিলাম। কারণ আমি জানি যদি বিড করার পর তারা আমাকে কাজ দেয় তবে আমি কি কাজ তাদের দেবো ? আমি তো কিছুই পারি না। কোন পত্রিকার এক পৃষ্ঠার লেখা দ্বারা আপনার কাজ শেখা হয় না। আপনাকে কাজ শিখার পরেও অনেক অনুশীলন করতে হবে। আপনি ইন্টারনেটে প্রচুর কাজের টেম্পলেট পাবেন। এখানের টেম্পলেটের সাথে আপনার করা কাজের মান তুলনা করুন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি সেই কাজের যোগ্য কি না ?
আপনার যদি ইংরেজীতে কাজ শিখতে অসুবিধা হয় তবে আপনি বাংলাদেশি প্রথম শ্রেণির সাইটগুলো দেখুন। আপনি চাইলে ভালো প্রশিক্ষণ সেন্টার থেকেও কাজ শিখতে পারবেন। তবে সব ক্ষেত্রেই আপনাকে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। আপনি দেশের কয়েকটি কাজ ফ্রিতে কারুন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন এ ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা হতে পারে বা এর সমাধান কিভাবে। যেমন আপনি যদি লগো ডিজাইন শিখুন তবে কয়েকজনের লগো ফ্রিতে বানিয়ে দিন। তাহলেই একদিকে যেমন আপনার অনুশীলন হবে তেমনি আপনি এ ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা হয় তা বুঝতে পারবেন।
আপনি একটু ভেবে দেখুন, আপনি যদি কোন কাজে বিড করেন তবে সেই কাজে যদি আপনার চেয়ে দক্ষ একজন বিড করে তাহলে আপনার আর তার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু ? আপনাকে কাজ করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। কাজ নিয়ে আপনাকে অনুশীলন করা চলবে না। আপনাকে আগেই ভালোভাবে কাজ শিখে অনুশীলন করতে হবে।

যে বিষয়গুলো শিখতে হবে :

আপনি একজন ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে আপনাকে html, css, php, javascript, ajax, mysql এই বিষয়গুলো অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। এগুলো একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত। আপনাকে ফটোশপেও কিছুটা বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে। তাছাড়া আপনাকে জনপ্রিয় কিছু CMS এর সম্পর্কেও জানতে হবে। যেমন: WordPress এর থিম ডেভেলপ, Joomla এর টেম্পলেট, মেজেন্টো ইত্যাদি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চাইলে আপনাকে Photoshop, vactor design, 3D, Logo Design, Illustrator, ঘরবাড়ির ডিজাইনের জন্য Auto CAD 2D, 3D ইত্যাদি জানতে হবে। আপনি চাইলে একটি শুধু একটি বিষয়েও ভালো করতে পারেন। তবে স্কিল বাড়ানো একজন ডেভেলপারের আসল অস্ত্র।
পোগ্রামিং করার জন্য Java, C, C++, Ruby, Python, Visual Basic এগুলো হচ্ছে সবচেয়ে ভালো মানের। এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের জন্য দরকার Java। জাবা দ্বারা আপনি পিসির জন্যও অনেক সুন্দর অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করতে পারবেন। জাবা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর একটি পোগ্রামিং শিখলে আপনি আরকেটি পোগ্রামিং শিখতে অনেক কম সময়েই পারবেন।