অনলাইনে মিলছে না ট্রেনের টিকিট (অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

জাতীয় রাজশাহী

ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়ে গেছে টিকিটের চাহিদা। ফিরতি টিকিটের জন্য যাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছে রেলস্টেশন কিংবা অনেকেই ঢুঁ মারছেন অনলাইনে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে। স্টেশন কিংবা ওয়েবসাইট কোনো জায়গা থেকেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ তুলছেন সাধারণ যাত্রীরা।

ট্রেনের টিকিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন পূর্বের অগ্রীম টিকিট পাওয়া যায়। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে অগ্রীম টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৯ দিন আগে থেকে। ১৬ সেপ্টেম্বরের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর আর ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রি হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বরের টিকিট। সকাল ৮:০০ থেকে ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু হয়। স্টেশনের কাউন্টার এবং অনলাইনে রেলওয়ের ওয়েবসাইট esheba.cnsbd.com এ ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬) এবং আজ (৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬) অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য বসে পড়ি আমি।

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, সকাল ৭:৫৫ মিনিট

অনলাইনে ১৭ সেপ্টেম্বরের টিকিট কেনার জন্য বসে আছি। ল্যাপটপ আর ফোনে ব্রাউজার ওপেন করে রেলওয়ের ওয়েবসাইট ‘esheba.cnsbd.com‘ভিজিট করলাম। আগে থেকে নিবন্ধিত আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করে সকাল ৮:০০ বাজার জন্য অপেক্ষা করি।

ইত:মধ্যে ওয়েবসাইটে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া হিসেবে রেলপথ রাজশাহী-ঢাকা, তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর এবং টিকিটের ক্লাস নির্ধারণ করে রাখি। ৮:০০ বাজতেই সার্চ বাটনে ক্লিক করি। রাজশাহী-ঢাকা রুটের তিনটি ট্রেনের অপশন আসে। সিল্কসিটি, পদ্মা এবং ধূমকেতু। এসে গেছে ট্রেন, এবার টিকিট কাটার পালা!

প্রথমে কাঙ্ক্ষিত ‘ধূমকেতু’ ট্রেনের টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করলাম। মেসেজ দেখানো হলো “Mobile Quota Seats not available”। তখন ৮:০১ মিনিট! অর্থাৎ ১ মিনিটেই সব টিকিট শেষ। অবাক হয়ে বাকি দু’টি ট্রেনের টিকিট কেনার চেষ্টা করলে দেখানো হয় “Train has been temporarily barred for Service Requested”। অর্থাৎ স্টেশন থেকে ওই ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

capture

এরপর সকাল ৮:০০ থেকে ১০:০০ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া হলে একই মেসেজ এবং মাঝে মাঝে সিট নেই বলে জানানো হয়।

একই সমস্যার সম্মুখীন হই গতকাল ০৭ সেপ্টেম্বরে, ১৮ সেপ্টেম্বরের টিকিট কাটার সময়। অর্থাৎ টিকিট না পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

অভিযোগ রয়েছে, টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টার থেকেই টিকিট কেটে রাখছে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মচারী। এসি, নন এসি টিকেটের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে আগেই। ফলে বিক্রি শুরুর পর অল্প সময়েরে মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রমাণ না থাকায় কেউ তাদের ধরতে পারছে না।

এছাড়াও সেটেশনের কাউন্টারগুলোতেও সকাল ১০ঃ০০ টার মাঝে সব টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন দীর্ঘ লাইনে থাকা যাত্রীরা।

2 thoughts on “অনলাইনে মিলছে না ট্রেনের টিকিট (অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

Comments are closed.