অবুঝ শিশুর হাতেও ফেনসিডিল!

রাজশাহী

2012-06-27_1340732100
মাদকের ভয়াবহ ছোবলে রাজশাহী মহানগরসহ সব জেলা প্রায় আচ্ছন্ন। শিশু-কিশোররা পর্যন্ত এই মরণ নেশায় আসক্ত। স্কুল-কলেজের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বেড়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, তারা জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসাতেও। বাড়ছে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণা ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধ। হত্যাকাণ্ডও ঘটছে এই মাদকের কারণে।

সীমান্তের ওপার থেকে আসছে বস্তা বস্তা ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। অবাধে মাদক কেনা-বেচা হচ্ছে রাজশাহীতে। কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা এই মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদের কারণেই রাজশাহীতে মাদকের কেনা-বেচা চলছে প্রকাশ্যে।

রাজশাহী অঞ্চলের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সুপার মো. সলিম উল্লাহ বলেন, আগের চেয়ে এ অঞ্চলে মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব মাদক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের ১০ জন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে মাদকের পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। কোমলমতি শিশুরা পর্যন্ত নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকের সর্বনাশা ছোবলে ধুঁকছে।

ব্যবসায়ীরা মাদক বহনের কাজে তারা ব্যবহার করছে নারী ও শিশুদের। দারিদ্র্য, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, প্রলোভন এমনকি কখনো চাপের মুখে নারীরা মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছে বলে জানা যায়। মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দারপ্রান্তে ছাত্র ও যুব সমাজ। জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণীর শিক্ষক এমনকি সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কোমলমতি শিশুরাও।

বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসেবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আটক হলেও মূল হোতারা সবসময় থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না।