অর্থাভবে থমকে গেছে রাজশাহীর আরিফের স্বপ্ন

রাজশাহী

ছেলেটির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন সেই ছোটবেলা থেকে। সেই লক্ষ্যে তিনি পড়াশোনা করেছেন। সংসারের নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছে, কিন্তু টাকার অভাবে পারছেন না সেই হাতছানিকে নিজের করে নিতে।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ই’ ইউনিটে ২৮০ তম স্থান লাভ করেও অর্থাভবে ভর্তি হওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন পাবনার ছেলে আরিফ হোসেন। ১৫ হাজার টাকার জন্য দৃষ্টিশক্তিহীন বাবার ছেলে আরিফ হোসেন তাই ছুঁতে পারছে না নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নকে।
জানা যায়, আরিফ হোসেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত মীরচামারি গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে। আরিফের বাবা এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছন। আরিফ ২০১৩ সালে মীরচামারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ ৫.০০ এবং ২০১৫ সালে সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ ৪.০৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। টাকার অভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং-এ ভর্তি হতে পারেননি আরিফ। নিজে নিজেই পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।

আরিফ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ই’ ইউনিটে ২৮০ তম স্থান লাভ করে। তার ভর্তি পরিক্ষার রোল- ৫৫৮২৩৭। আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ভর্তির জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। এদিন ভর্তি হতে না পারলে আর কোনো সুযোগ থাকবে না আরিফের।

আরিফের বাবা মমিনুল হক জানান, দুর্ঘটনায় আমি অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ছেলেদের জন্য কিছু করতে পারি না। ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, অথচ আমি পারছি না একটু হাসতে। কষ্টও সহ্য করতে পারছি না, আবার নিজে কিছু করতেও পারছি না।
আরিফের মা হাসিনা খাতুন জানান, ছেলেটা এতোদিন এলাকার স্কুলে পড়াশোনা করতো তাই তেমন খরচ লাগতো না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু আমার এই টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই। বড়ো স্বপ্ন দেখি ছেলে পড়াশোনা শেষ করে সংসারের হাল ধরবে, তখন আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

3 thoughts on “অর্থাভবে থমকে গেছে রাজশাহীর আরিফের স্বপ্ন

Comments are closed.