আইক্রীম বিক্রি করে স্বাবলম্বী রাজশাহীর কাশেম

বাগমারা রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চানপাড়া গ্রামের কাশেম আলী (আইক্রীম) বরফ বিক্রি করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। দারিদ্রের নির্মম কষাঘাতে নিষ্পেশিত এক সময়কার কাশেম খুঁজে পেয়েছে সুখের ঠিকানা। কাশেম জীবিকার তাগিদে বরফ বিক্রি শুরু করেন ১০ বছর বয়সে।

তিনি এখনও বরফের বাক্রা মাথায় নিয়ে ছুঠে চলেন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভবানীগঞ্জ বাজারে। অভাব-অনটনের সংসারে যখন তিনি জর্জরিত তখনই বেছে নেন বরফ বিক্রি। এভাবেই এক সময়ের বেকার যুবক কাসেম আলী হয়ে উঠেন জীবন সংগ্রামের একজন সফল সৈনিক। প্রতিদিন সকালে তাকে দেখা যায় ভবানীগঞ্জ পৌর বাজারে।

একজন বেকার যবুক ইচ্ছে করলেই তার মতো পরিশ্রম করে কর্মসংস্থান তৈরী করতে পারে। ফিরিয়ে আনতে পারে সংসারের সচ্ছলতা। ১৫ বছর বয়সে কাসেমের বাবা বিয়ে দেন তাকে। সংসার ধর্ম বুঝে উঠার আগেই বাবা আলাদা করে দেন তাকে। দরিদ্রের কষাঘাত থেকে বের হতে পারেনি কাসেম,অভাব অনটন লেগেই থেকেছে তার জীবনে।

এক সময় তিনি অনাহারে অর্ধাহারে খেয়ে না খেয়ে জীবন ধারন করেছেন বহুদিন। বাবার পৌত্তিক সূত্রে চার শতক জমি পেয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। সেখানে ২টি মাত্র কুঁড়ে ঘরে কোন রকম মাথা গুঁজে থাকতো তারা। ঝড়-বৃষ্টিতে বিছানা পত্র ভিজে যেতো।

এর মাঝে পরিবারে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটায় সংসারের খরচ বাড়তে থাকে এর মধ্যে সংসারে নতুন মুখের জন্ম হয়। পর পর ১০ বছরের ব্যবধানে ১ ছেলে আর ২ মেয়ে জন্ম গ্রহন করেন তার অভাবের সংসারে। ছেলে-মেয়েদেরকে ঠিকমত পড়া শুনা বেশী করাতে পারেনি তিনি। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি আর ছেলেও বিয়ে করেছে।

মেয়েরা জামাইয়ের সংসারে সংসার করছে আর ছেলে রাজমিস্ত্রি কাজ করে। কাশেম জানান, আমি বরফ বিক্রি শুরু করি ভবানীগঞ্জ বাজারের মীরা বরফ ফ্যাক্টরী থেকে। ২০ বছর আগে সেটা বন্ধ করে দেয় মালিক। তার পর তাহেরপুর থেকে বরফ নিয়ে বিক্রি করি। এখন আর তাহেরপুর যেতে হয়না।

উপজেলার পাশে বাসুপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুরে এখন মিল হওয়াতে সেখান থেকে নিজে দুধ,চিনি নারকেল দিয়ে বরফ তৈরী করে বিক্রি করি। এতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা খরচ করে বরফ তৈরী করে বিক্রি করলে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। আর তাই দিয়ে চলে আমার সংসার।

উপজেলা সদর সহ আশেপাশে মানুষ এবং বিভিন্ শিক্ষা প্রতিষ্টানে কাশেম নামে চেনে তাকে। জীবন সংগ্রামে লিপ্ত বরফ বিক্রি করে আজ স্বাবলম্বী।

তার এই স্বাবলম্বীর কথা জানতে চাইলে কাশেম পেছনের কষ্টের কথা গুলো মনে করে অশ্রুসিক্ত নয়নে কেঁদে ফেলেন তিনি। কাশেম বলেন, আল্লাহপাক আমার দিকে ফিরা তাকাছে বাবা। কষ্ট করলে তার ফল পাওয়া যায়।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

3 thoughts on “আইক্রীম বিক্রি করে স্বাবলম্বী রাজশাহীর কাশেম

Comments are closed.