‘আইন অমান্য করে গৃহকর বৃদ্ধি করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন’

রাজশাহী

আইন অমান্য করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) গৃহকর বৃদ্ধি করেছে। এ জন্য আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে রাসিকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাসিক গত বছরের এপ্রিলে যেভাবে গৃহকর বৃদ্ধি করেছিল, তা আইনসিদ্ধ ছিল না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইন অমান্য করেই নগরীর গৃহকর বৃদ্ধি করা হয়েছিল।’

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ার পাশা গত ৮ মে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিটি রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহী বিভাগের পরিচালকের কাছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্গফুটভিত্তিক গৃহকর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের পুর্বানুমোদন গ্রহণ না করে রাসিক স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ২০০৯-এর ধারা ৮২ এবং ১৯৮৬ সালের ট্যাক্সেসন বিধি ৪(৫) লঙ্ঘন করেছে।

রাসিকের অস্বাভাবিক গৃহকর আদায়ের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে আপত্তি উঠলে নগরীতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন হয়। বিষয়টি অবগত করে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় রাসিকে একটি চিঠি দিয়ে বিস্তারিত বিবরণ জানতে চায়। রাসিক ওই চিঠির উত্তর দিয়েছে।

তবে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, নগরীতে সর্বশেষ কী হারে গৃহকর আরোপিত ছিল, শতকরা কী হারে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কর বৃদ্ধিতে কী কী বিষয় বিবেচনায় আনা হয়েছে, সেসব চিঠিতে উল্লেখ করেনি রাসিক। তাই বর্গফুটভিত্তিক কর আরোপ করে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টির বিষয়ে রাসিকের বিস্তারিত বক্তব্য আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি আগে কী হারে গৃহকর আরোপিত ছিল, সে সম্পর্কিত তথ্য এবং বর্তমান বর্গফুটভিত্তিক গৃহকর আরোপ-সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি ও দলিলপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্যও চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র থাকাকালে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীম পূর্বঘোষণা ছাড়াই নগরীর গৃহকর ৫ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। এরপর এ নিয়ে আন্দোলনে নামে বেশ কয়েকটি সংগঠন। আইনজীবীরা আদালতেরও আশ্রয় নেন। পরে গত জানুয়ারিতে উচ্চ আদালত বর্ধিত হারে গৃহকর আদায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে নিযাম-উল-আযীমকে নগরবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হতো না জেনেই গৃহকর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছিল। মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই তিনি গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি এরই মধ্যে কয়েকটি বৈঠক করেছেন। আরো কয়েকটি বৈঠক করবেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বলে মেয়র জানান।

খবরঃ এনটিভি