আকলিমার মুখরোচক খাবার

পবা রাজশাহী

আকলিমা। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কিশোরী বয়সে সংসারে পা রাখেন। তবে নিয়তিতে লেখা ছিল অন্য কিছু। আকলিমা এখন মাঝ রাস্তার খোলা আকাশের নিচে চুলো বসিয়ে মুখরোচক ভাজা-পোড়া খাবার তৈরি করেন। রোদে পুড়ে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই মুখোরোচক খাবার বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়েই জ্বলে আকলিমা তিন সদস্যের সংসারের উনুনের আগুন।

পবা উপজেলার মুন্না ডাইং এলাকার কৃষক ঘরের সন্তান আকলিমা। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সংসারের অভাব-অনটন আর সামাজিক কুপ্রথার বেড়াজালে সেই সময়ের কিশোরী আকলিমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। বিয়ে হয় নাটোরে এক নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারে। বছর না ঘুরতেই আকলিমার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। স্বামী-সন্তান আর দুপক্ষের আত্মিয়দের নিয়ে ভালোই চলছিল আকলিমার সংসার। খাওয়া-পড়ার অভাব ছিলো না। যেটুকু অভাব ছিলো তাও সকলের ভালোবাসা ও ¯্নেেহ মন থেকে কখন হারিয়ে যেতো, তা আকলিমা নিজেই বলতে পারে না। তবে এই সুখ টুকুও সইলো না তার।

শশুর বাড়ি থেকে স্বামী-সন্তান নিয়ে রাজশাহীতে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন আকলিমা। এর পর কোন এক রাতে স্বামী তিন রাস্তা মোড়ের একটি বটগাছের নিচ দিয়ে আসতে গিয়ে কী যেন একটা দেখে ভয় পায়। সে ভয় আর কাটলো না আকলিমার স্বামীর। কথিত আছে এই বটগাছে অশুভ কিছু রয়েছে। যা এই গ্রামের অনেকেরই ক্ষতি করেছে। কবিরাজ-পথ্য কোন কিছুতেই আর কাটানো গেলো না তার সেই ভয়। কোলের সন্তানের ভূমিষ্ট হবার বছর না পেরুতেই অজানা সেই ভয়েই মারা গেল স্বামী। এদিকে স্বামী মরার মাস না পেরুতেই জানা গেল আকলিমার কোল জুড়ে আসতে চলেছে আরেকটি সন্তান।

তবে আকলিমা জীবন সংগ্রামে হারেনি। আজও অব্যাহত রয়েছে তার পথ চলা। তার এক ছেলে ও এক মে স্বামীর ছেড়ে যাওয়া একমাত্র সম্পদ ও স্মৃতি চিহ্ন। স্বামী মারা যাবার পর বাবার দেয়া এক চিলতে জমিতে সেই সন্তানদের নিয়ে শুরু হয় আকলিমার একলা জীবন সংগ্রাম। দিনে লেস-ফিতা, েস্না-পাওডার ও শাড়ি-চুরি গ্রামের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফেরি করা শুরু করেন। আর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত তিন রাস্তার মোড়ের সেই অশুভ বটগাছের নিচে মুখরোচক খাবার তৈরি করে স্থানীদের কাছে বিক্রি করেন। সেই থেকে এই আয়েই চলছে তার জীবন-সংগ্রাম।

আকলিমার দুই সন্তানের মাধ্যে এক ছেলে এখন রাজশাহী কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স পড়ছে আর ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি কলেজে মানবিক বিভাগে পড়ছে। কী চায় আকলিমা? জীবন জুড়ে এত কষ্টের পরও সে তার নিজের জন্য কোন কিছু চায় না! সে শুধু চায় তার দুটি যক্ষের ধন সন্তান যেন আগামীতে থাকে দুধে-ভাতে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন