আজো বিদ্যু‍ৎ পেলেন না ১৩ লাখ গ্রামীণ গ্রাহক!

জাতীয়

bddt

১৮ লাখ নতুন গ্রাহক। অথচ জানুয়ারি ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ সাল নাগাদ বেঁধে দেওয়া সময়ে বিদ্যুৎ পেয়েছেন মাত্র ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮২ জন। বাকি ১৩ লাখ ৪ হাজার ৬১৮ জন গ্রামীণ গ্রাহকের সে কপাল হয়নি। তাদের ঘরে পৌঁছায়নি কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ। কারণ সব কাজ চলছে শম্বুকগতিতে।

খোদ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্র থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানায়, এ ১৮ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৬ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৮ জন গ্রাহককে সংযোগ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে। তবে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৪০ জন গ্রামীণ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কাজ এখনও শুরুই হয়নি। এই বাকী গ্রাহকদের সংযোগ দেয়ার জন্য বাপবিবো’র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্পে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৭২টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিভুক্ত ৪৫৩টি উপজেলায় মোট ৪৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ করার কথা ছিল । কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৯ হাজার ৫০৪ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। চলমান রয়েছে ১৬ হাজার ৫৭৭ কিলোমিটার লাইনের কাজ। বাকী ১১ হাজার ৪১৯ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (টেকনিক্যাল) আব্দুল খালেক বলেন, নানা কারণে ১৮ লাখের মধ্যে ১৩ লাখ গ্রামীণ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। বৈদ্যুতিক লাইনে ওভার লোডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি।

দাম বেশি হওয়ার কারণে প্রকল্পের আওতায় জমি কেনার কাজও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ার কারণে আমরা সবাইকে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দিতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। টাকার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

অপরদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৮ লাখ গ্রাহককে সংযোগ প্রদান’ প্রকল্পের আওতায় ১৮ লাখ নতুন গ্রামীণ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা।

সময় ও অর্থ শেষ হলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্য যাতে করে পূরণ হয় সেই লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য বাপবিবো পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

একইভাবে ১ হাজার ৭ কোটি অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৪২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎসুবিধা দেওয়া। দুই হাজার কিলোমিটার ৩৩ কেভি নতুন লাইন নির্মাণ করা, ৫’শ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন আপগ্রেডেশন করা, ১০০টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা। এছাড়া ৫০টি ৩৩/১১ কেভি উপ-কেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু যন্ত্রপাতির তালিকা আরডিপিপিতে নেই।

সংশোধিত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কি পরিমাণে বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রয়োজন। এ পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কি পরিমাণ পল্লীবিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

চলমান প্রকল্পসমূহে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো লাগবে তা পরিষ্কারভাবে আরডিপিপিতে (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) যোগ করতে হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন বাপবিবো’কে নির্দেশনা দিয়েছে।

বর্তমানে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিগুলোর সিস্টেম লস কত এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিস্টেম লস কতোটা কমবে সেই বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। কেন নির্দিষ্ট সময়ে ১৮ লাখ নতুন গ্রামীণ গ্রাহকের সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে যাতে করে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় সেই লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা আরডিপিপিতে যোগ করার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

সুত্রঃ বাংলানিউজ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published.