আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পুরোনো মোড়কেই রাজশাহীর ‘রাঙাপরী’

রাজশাহী

একটিভ গোল্ড মেহেদি নামে পরিচিত ‘রাঙাপরী’কে তিন মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। সে সময় রাঙাপরীর প্যাকেটে মেহেদি না লিখে ‘মেহেদী কালার’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পুরোনো মোড়কে এখনো পণ্য বিক্রি চলছে।

রাজশাহীর মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাঙাপরী উৎপাদন ও বাজারজাত করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সে সময় রাঙাপরীর পাঁচ হাজার মোড়ক জব্দ করে নষ্ট করে ফেলেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়, ৮ জুন রাজশাহীর নির্বাহী হাকিম আমিনুল ইসলাম নগরের আসাম কলোনিতে অবস্থিত মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় ‘রাঙাপরী একটিভ গোল্ড মেহেদী’ নামে রাসায়নিক উপাদান মেশানো কৃত্রিম মেহেদি প্রস্তুত করতে দেখা যায়। মোড়কে মান নিয়ন্ত্রিত মেহেদি হিসেবে উল্লেখ থাকলেও এটি আসলে প্রাকৃতিক কোনো মেহেদি নয়। বরং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও রং মেশানো একধরনের রং, যা দেখতে মেহেদির মতো। এ ছাড়া প্যাকেটের গায়ে ‘সম্পূর্ণ হালাল’ কথাটা লেখা থাকলেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ (সার্টিফিকেশন) তাঁদের কাছে নেই।

আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী হাকিম আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানকে তাদের মোড়কে ‘একটিভ গোল্ড মেহেদী’ কথাটি বাদ দিয়ে ‘মেহেদী কালার’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারা হালাল শব্দটি ব্যবহার করলেও তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। পরে তাদের মেহেদি কালার তৈরিতে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তার রাসায়নিক মান ও উৎপাদিত কৃত্রিম মেহেদির অ্যাসিডিক মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মান-সম্পর্কিত সার্টিফিকেশন নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুরোনো মোড়কের ছবি ব্যবহার করে তারা রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিকগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে। আবার নগরের আরডিএ মার্কেটের সামনে ঈদ উপলক্ষে রাঙাপরীর পক্ষ থেকে সুদৃশ্য ও বিশাল ফটক তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও তাদের এই পণ্যের স্লোগান হিসেবে ‘একটিভ গোল্ড মেহেদী’ লিখে রাখা হয়েছে। আবার প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ এপ্রিল, ২০১৫ লেখা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিটি প্যাকেটের ভেতরে ‘ঈদ ধামাকা অফার-২০১৫’-এর ঘোষণাসংবলিত প্রচারপত্র পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সরকার বলেন, তাঁরা আর নতুন করে কোনো কিছু করছেন না। আগেরগুলোই বিক্রি করছেন। আগের মোড়কগুলো জব্দ করার পরও সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর ভাই মাসুম সরকার মেহেদির দিকটা দেখেন। তিনি হজে গেছেন। ফিরে আসার পর তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতে পারবেন।

প্রথম আলো