আবারও ফুঁসে উঠছে কীর্তিনাশা রাজশাহীর পদ্মা

রাজশাহী

ভাদ্রের শুরুতে আবারও ফুঁসে উঠছে কীর্তিনাশা পদ্মা। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীর পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদীতে বয়ে চলা দখিনা স্রোত এখনই যেন ছোবল মারতে চাইছে শহর রক্ষা বাঁধে। এতে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। বিশেষ করে তীরবর্তী মানুষ ভাঙনের শঙ্কা করছেন।

তবে, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, এবারের মৌসুমে বিলম্বিত বৃষ্টিপাত চলছে। আর আবহাওয়ার এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পানি কখনও কখনও বাড়বে কখনও কমবে। তাই এখনই উৎকণ্ঠিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বাংলানিউজকে বলেন, বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানির উচ্চতা মাপা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫২ মিটার।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ছিল ১৫ দশমিক ২৫ মিটার। ফলে ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৭ মিটার। আর রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। বর্তমানে বিপদসীমার ২ দশমিক ৯৮ মিটার নিচ দিয়ে রাজশাহীতে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এনামুল হক আরও বলেন, গেলো ১৭ বছরে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা (১৮.৫০) অতিক্রম করেছে মাত্র দু’বার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০মিটার। এরপর পানি বাড়লেও আর এই রেকর্ড ভাঙেনি বলেও উল্লেখ করেন পাউবোর এই গেজ রিডার।

বুধবার বিকেলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে নদীতে স্রোত বইতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর থেকে নবগঙ্গা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় একটু একটু করে পানি শহররক্ষা বাঁধ ছুঁতে শুরু করেছে। পানি বাড়ায় মহানগরীর বসুড়ি এলাকার মানুষ আবারও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।

জিয়ানগরে নদীপাড় থেকে প্রায় ৩শ মিটার উত্তরে নির্মাণ হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি’। গত বছরের ভাঙনে পাড়ের কিছু অংশ পড়েছিল। আবার যে হারে পানি বাড়ছে তাতে সেখানকার কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন করে পানি বাড়ায় হুমকির মুখে পড়েতে পারে মহানগরীর শ্রীরামপুরের টি-বাঁধ এলাকাও। ২০১৭ সালে ফাটল দেখা দেওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়েছিল এই বাঁধের। গত বছরও জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে এখানে। পানির প্রবাহ ও স্রোতের গতিবেগে দেখে এবারও সেখানে ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, গত ২ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মার পানি হঠাৎ ১০ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকে পানি আবার কমতে শুরু করে। তবে ৭ জুলাই থেকে পানি আবার বাড়তে শুরু করে। সবশেষ ২০ জুলাই পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা হয় ১৫ দশমিক ৮৬ মিটার। তারপর থেকে পানি একটু একটু করে কমতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে পদ্মায় পানির যেই প্রবাহ, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে পানি বাড়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। পুরো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পদ্মার পানি কখনও বাড়বে আবার কখনও কমবে। তবে বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা এখনও কম।

আর পানি বাড়লেও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তবে টি-বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য তাদের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম আরও বলেন, রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। তবে শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ১৯ দশমিক ৬৭ মিটার। তাছাড়া মহানগরীর পশ্চিমাংশে বুলনপুর থেকে পবার সোনাইকান্দি পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বাঁধ সংরক্ষণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই বাঁধ নিয়ে মহানগরবাসীকে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর