আষাঢ়েও পুড়ছে বরেন্দ্র

রাজশাহী

বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে পেরিয়ে গেলো আষাঢ়ের দুই দিন। তার আগে থেকেই বৃষ্টিহীন রাজশাহী অঞ্চল। ঈদের দিন (৫ জুন) সামান্য বৃষ্টি হলেও এর পর থেকে বিরামহীন সূর্যতাপ। এরই মধ্যে এসে গেলো বর্ষাকাল। গাছে গাছে আগেই উঁকি দিয়ে ঝরে গেছে বর্ষার ফুল কদম, এখনো উকি দিচ্ছে চালতা। তবে ঝরেনি বৃস্টি। এ অবস্থায় তীব্র খরা অনুভূত হচ্ছে রাজশাহীর বরেন্দ্রসহ উত্তরাঞ্চলজুড়েই।

টানা সূর্যতাপ ও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তীব্র তাপদাহে তপ্ত হয়ে উঠেছে এ অঞ্চল। অব্যাহত তাপ প্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে প্রাণীকূলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা সূর্য দহনে স্থবিরতা নেমে এসেছে কর্মজীবনেও। বাসা-বাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সবখানেই অস্থিরতা চলছে। শান্তি মিলছে না কোথাও।

বর্ষা এসে গেলেও রাজশাহীর আবহাওয়ার তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। প্রতিদিনই ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা উঠানামা করছে। এই অবস্থায় প্রশান্তির একমাত্র উপায় বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে এ অঞ্চলে। এদিকে তীব্র তাবদাহের কারণে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম জানান, গত কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কখনোই ২৫ ডিগ্রির নিচে নামেনি। রবিবার দুপুরে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপামাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ এর ঘরে ছিলো।

আবদুস সালাম বলেন, রাজশাহীতে মৃদ তাপ প্রবাহ বিরাজ করছে। এ কারণে গরমের পরিমাণ অনেকটা বেশি। অব্যাহত তাপমাত্রার পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন একেবারেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যেই রাস্তা-ঘাট রোদে খাঁ খাঁ করছে। দুপুরের দিকে অবস্থা আরও বেগতিক আকার ধারণ করছে। প্রচন্ড সূর্যতাপে মানুষ ঘর থেকে রাস্তায় যেন বের হতেও পারছেন না। গরমে বাসাবাড়িতেও টেকা দায়। রাজশাহী নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, গরমের কারণে ঈদের পর থেকে তেমন বেঁচাকেনাই নাই। মানুষ বাইরে বের হওয়ারই সাহস পাচ্ছেন না।

নগরীর রিকশা চালক ইলিয়াস রহমান বলেন, গরমের কারণে রিকশা চালাতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু পেটের টানে বাড়ি থেকে বের হইে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা আষাঢ় মাস না চৈত্র চলছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে আষাঢ়ে যখন মানুষ বৃস্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ঠিক তখনই বৃষ্টির বদলে তীর্ষক সূর্যরশ্মির প্রখরতায় যেন পুড়ে ছারখার হচ্ছে প্রকৃতি। স্বস্থি নেই কোথাও। আর তীব্র গরমে ঘরকে ঠাণ্ডা রাখতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ ছুটছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের শোরুমগুলোতে। কিনছেন এয়ারকন্ডিশনার, এয়ারকুলার, টেবিল ফ্যান, দেয়াল ফ্যান, রিচার্জেবল ফ্যানের মতো রুম ঠাণ্ডা রাখার অ্যাপ্লায়েন্সেস। সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ঠাণ্ডা পানির জন্য ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে ফ্রিজ। আর এসব কেনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্রেতাই বেছে নিচ্ছেন নামী-দামী ব্র্যান্ড।

গেল কয়েকদিন ধরে দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডের শোরুমে ক্রেতা উপস্থিতি বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট ইলেকট্রনিক্স দোকানেও ক্রেতা সমাগম হচ্ছে ব্যাপক। সেই সঙ্গে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্য মাথায় রেখে উচ্চ গুণগতমানের ফ্রিজ, এসি, ফ্যান ইত্যাদি পণ্যর দিকেই ঝুঁকছেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ Daily Sunshine