আড়ানীতে বিএনপির ঘরে ‘বিভীষণ’

বাঘা রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

কথায় আছে, ঘরের শত্রু বিভীষণ; ঘর ভালো তো পর ভালো। কিন্তু সেই ঘরেই জ্বলছে তুষের আগুন। আর সেই আগুনে পুড়তে শুরু করেছে এবারের পৌর নির্বাচনও!

এমন অবস্থা বিরাজ করছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বিএনপিতে। পৌর নির্বাচন প্রশ্নেও এখানে একট্টা হতে পারেনি দলটি।

ধানের শীষ প্রতীকে একজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিদ্রোহী হয়ে (স্বতন্ত্র) নির্বাচন করছেন অপরজন। তাই এখানে নিজেরাই প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলটির নেতারা। এই সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহীর ১৩ পৌরসভার মধ্যে আড়ানীতেও দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হচ্ছে।
এবার এখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন পান দলটির বাঘা উপজেলা সহ সভাপতি বাবুল হোসেনকে। কিন্তু গত ৩ ডিসেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যুতে নৌকা’র টিকিট পান আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তার হোসেন।

বর্তমানে তাকে ঘিরেই চলছে আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা। আর  ধানের শীষে বিএনপির মেনোনয়ন পেয়েছেন তোজাম্মেল হক; যিনি পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ছিলেন।

বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল ফোন প্রতীকে নির্বাচন করছেন করছেন নজরুল ইসলাম। তিনি আড়ানী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও বর্তমান মেয়র।

এছাড়া জাসদ থেকে মশাল প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন এমএম জুয়েল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে নামা তোজাম্মেলের বিরুদ্ধে মনোনয়ন কেনার অভিযোগ থেকে শুরু করে গণসংযোগে বাধা, মিথ্যাচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

এতে ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরাও। নিজের দলের নেতা যখন এধরনের কাজে লিপ্ত তখন দলীয় প্রার্থীকে জেতানো তাদের কাছে যেনো দুঃসাধ্য হয়ে ওঠেছে।

স্থানীয় ভোটার আবদুস সোবহান বলেন, বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা শোনা যাচ্ছে।  এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী।

একই মত ব্যক্ত করলেন মহানগরের রেলস্টেশন এলাকার ভোটার কামারুজ্জামান রিপনও।

বললেন, বিএনপির প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে ব্যস্ত। গত সপ্তাহে বিএনপির দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন।

নুরুজ্জামান খান মানিক বলেন, গত উপ নির্বাচনেও বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এরপরও জয় এসেছে। এবার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে। কর্মী সমর্থক ও ভোটাররা প্রতীকের বাইরে ভোট দেবেন না।

তবে দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী তিনি।

স্থানীয় বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করছে, তাদের মধ্যেও কোন ভিত্তি নেই। এরপরও এ ধরনের কোনো বিষয়ের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবলু বলেন, তার দলে কোনো বিভেদ নেই। তাই সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুক্তার হোসেন বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

তবে বিএনপির প্রার্থী তোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, তার দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে মিশে গেছেন।

তবে তিনি এও বলেন, ‘যে যতো চেষ্টাই করুক নির্বাচনে জয় হবেই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমার নিশ্চিত জয় জেনে দলের প্রতিপক্ষ প্রার্থী নানা ধরনের মিথ্যাচার করছেন, অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বাঘা উপজেলা রিটার্নিং অফিসার হামিদুল ইসলাম জানান, বাঘার আড়ানী পৌরসভায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬৬ জন। এরমধ্যে পুর‍ুষ ভোটার ৬ হাজার ২৮১ এবং ৬ হাজার ১৮৫ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এলাকায় মোট ভোটকেন্দ্র আছে ৯টি।

বাংলানিউজ-http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/451041.html