ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্র

রাজশাহী

দেশে উৎসবের অভাব নেই! তবু, সবকিছুর চেয়ে আলাদা ঈদ। সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে যায় সবার মধ্যে। এ দিন যৌবনের উদ্দামতায় উৎসব-আনন্দকে প্রাণের উচ্ছলতায় বেঁধে ফেলার সুর ওঠে তরুণ কণ্ঠে। আর সে উপলক্ষকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত তিলোত্তমা নগরী রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

ঈদুল ফিতরের কারণে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছে লোকজনে ঠাসা রাজশাহী শহর। চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য এখন অনুপস্থিত। ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে বন্ধ অফিস-আদালত। তাই একটু আগেভাগেই রাজশাহী জুড়ে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটির আমেজ। আগাম ছুটিতে বাড়ি চলে যাওয়ায় পাল্টে গেছে কোলাহলে ভরা নগরীর চেহারা।

ঈদের বিশাল এ উৎসবে মহানগরে বসবাসকারীসহ সারাদেশ থেকে আসা মানুষের জন্য প্রস্তুত মহানগরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এখন শুধু পশ্চিমাকাশে একফালি বাঁকা চাঁদ ওঠার অপেক্ষা। এরপর রাত পোহালেই মানুষের ঢল নামবে সব বিনোদন কেন্দ্রে।

ঈদ উৎসবকে মাথায় রেখে এরইমধ্যে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিক সাজে সেজেছে রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। নয়নাভিরাম ও আধুনিকভাবে সাজানো হয়েছে উদ্যানটি। প্রধান ফকটসহ সুদৃশ্য প্রাচীর নজর কাড়ছে সবার। ফটকের সামনেই চোখে পড়ছে সুদৃশ্য লেকসহ কার পার্কিং। এর সঙ্গেই আছে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা।

কেন্দ্রীয় উদ্যানের ভেতরের প্রকৃতিকে অপরূপ সৌন্দর্য দেওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হয়েছে। পশু-পাখির আস্তানা নিয়ে যাওয়া হয়েছে পশ্চিমে। কংক্রিট, রড, সিমেন্টের খাঁচার বদলে বাঘ, সিংহ, বানর, ভাল্লুক, মায়া হরিণ, চিত্রল হরিণ, গাধা, খরগোশসহ বিভিন্ন পশুরা পাচ্ছে আপন আবাসের মতোই অরণ্যের প্রকৃতি। ছাদবিহীন মাটির মেঝেতে গাছ-গাছালির মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশেই থাকবে তারা। আবাসস্থলগুলোর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্মাণ করা হয়েছে পাখিবান্ধব এভিয়ারি। নয়নাভিরাম পুকুর ও লেকের পাড় বাঁধাই করা। সুদৃশ্য ভেনাস দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে লেকের মধ্যখানে। নির্মিত হয়েছে দু’টি কার্ভ সেতু। চলাচলের পথগুলো করা হয়েছে আরো মনোরম। দক্ষিণের পাহাড় সংস্কার করে এর ওপর স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা।

ঈদের সময় শিশুদের মন মাতাতে থাকছে নানা আয়োজন। নির্মিত হয়েছে ফেরিস হুইল ও চিলড্রেন কর্ণার।

পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ আরো মনোরম করার উদ্দেশ্যে লাগানো হয়েছে নতুন গাছ। পুরনো বসার আসনগুলোতে টাইলস লাগিয়ে আরো উন্নত করা হয়েছে।

পিকনিক কর্নারগুলোকেও নতুন করে সাজানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নতুনভাবে সাজানো এ বিনোদন কেন্দ্রটি এবারো রাজশাহীবাসীর সর্বোচ্চ বিনোদনের খোরাক যোগাবে।

ঈদ উপলক্ষে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে শহীদ জিয়া শিশু পার্কও। এর সুবিশাল চত্বরের নয়নাভিরাম পরিবেশে ছোট-বড় সবার জন্য রয়েছে ভ্রমণের সু-ব্যবস্থা। আরো আছে থ্রি-ডি মুভি, অক্টোপাস, সুপার সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, প্যাডেল বোট, স্কাই বাইক, মিনি রেল কার, ফিজিক্যাল গেমসসহ অনেক কিছুই। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বাথরুম ও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। কার পার্কিংসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এ বিনোদন কেন্দ্রে।

শহরের দক্ষিণে পদ্মা নদীতে রয়েছে আই-বাঁধ ও টি-বাঁধ। বলা হয়, নদীর পাড়ই এখানকার মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন কেন্দ্র। রাজশাহীবাসীর কাছে কক্সবাজারখ্যাত বিনোদন কেন্দ্র হচ্ছে পদ্মা নদীর পাড়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে ছুঁটে আসেন এ জায়গায়। ঈদ ও বর্ষবরণের উৎসব হলে তো কথাই নেই! উপচে পড়া ভিড় হয় নদীর পাড়ে।

ছোট-বড় সবার কাছে অত্যন্ত উপভোগ্য পদ্মা নদীর পাড়। সরকারিভাবে উন্মুক্ত থাকায় সব শ্রেণির মানুষই এখানে বেড়াতে আসেন। ঈদ উপলক্ষে নদীর পাড়ের সুযোগ-সুবিধা ও সৌন্দর্য্য আরো বাড়ানো হয়েছে। চালানো হয়েছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও।

এছাড়াও, মহানগরীর শিমলা পার্ক, শহীদ মুনসুর আলী পার্ক, পদ্মা গার্ডেনসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত ঈদ বিনোদনের জন্য। এখন কেবল চাঁদ ওঠার অপেক্ষা!

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর