উত্তরা গণভবনের গাছ কাটার জের নির্বাহী প্রকৌশলী ওএসডি

নাটোর রাজশাহী বিভাগ

উত্তরা গণভবনে ঝড়ে পরে যাওয়া ও মরা গাছ কাটার টেন্ডারের বিপরিতে শতবর্ষী তাজা গাছ কেটে নেয়ার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দকে ওএসডি করে ঢাকায় রিজার্ভে নেয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ওএসডি করে রিজার্ভে নেয়ার আদেশ পাওয়ার পর গত ২৫ অক্টোবর তিনি নাটোরে শেষ অফিস করেছেন।

গত ১৭ অক্টোবর অবৈধভাবে ঠিকাদারের কয়েক লাখ টাকার গাছ কেটে নেয়ার ব্যাপারে গণমাধ্যমে খবর ছাপা হলে উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই দিনই জরুরীভাবে এক সভা করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়ে কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়।

গঠিত তদন্ত কমিটির পক্ষে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে গণপূর্তর নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ, ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল এবং গণভবনের তত্ত¡াবধায় আব্দুস সবুর তালুকদারকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বাকি তিনজন গণপূর্তর উপ-বিভাগী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম, গণপূর্তর এসও কামরুজ্জামান এবং তত্ত¡াবধায়ক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত রিপোর্টে মোট এক হাজার ৯২সিএফটি গাছ কাটা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদনস্ত প্রতিবেদনে গণবভন সুষ্ঠ ভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সাতদফা সুপারিশও করেছে। এদিকে গাছ কাটার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গণপূর্ত বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাজশাহীর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিল্লুর ররহমানকে প্রধান করে যে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয় সেই কমিটি ওই দিনই তদন্ত করে যায়।

সেই রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে গাছ কাটার অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউল হক এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানকে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে বদলী করা হয়।

বদলীর আদেশে তাদের দু’জনকেই নাটোর থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে চার্জ বুঝিয়ে না দিলে ২৩ অক্টোবর স্ট্যান্ড রিলিজ করার নির্দেশনা দেয়া হলে অভিযুক্ত দু’জনেই স্থানীয় ব্যবস্থপনায় তাদের নিজ নিজ চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে ২২ অক্টোবরেই নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য নাটোর থেকে রিলিজ অর্ডার নিয়ে নেন।

উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের একদিন আগেই তরিঘরি করে কেন দু’জন কর্মকর্তাকে নাটোর থেকে অন্যত্র বদলী করে দেয়া হলো তা অনেকের কাছেই রহস্যজনক মনে হয়েছে। এদিকে উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ২৩ অক্টোবর এব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, গণপূর্ত সচিব এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনের কাছে চিঠি দেন।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক জানান, তার পাঠানো চিঠি অনুযায়ী এখনও কোন নিদের্শনা তিনি পাননি তবে নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহামন আকন্দকে ওএসডি করার ব্যাপারে কোন কাগজপত্র না পেলেও ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। উত্তরা গণভবনে ঝড়ে পরা এবং মরা তিনটি গাছ এবং কিছু ডালপালা কাটার টেন্ডার দেয় স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ।

পরে মাত্র ১৮হাজার চারশ’ টাকার বিনিময়ে গাছগুলো কেটে নেয়ার কাজ পায় স্থানীয় যুবলীগ কর্মী সোহেল ফয়সাল ঠিকাদার। তিনি অন্যদের যোগসাজসে উত্তরা গণভবনের মোট ২২টি গাছ এবং ২৮টি গাছের বড় বড় ডালপালা কেটে নিয়ে যান যার অনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন