উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী

উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহী আসছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী ২৩টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। যা উন্নয়নের দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে রাজশাহী।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে সামনের দিকে এগিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বড় ভূমিকা রাখবে বলে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। তার আগমন যেনো পূর্ব দিগন্তে সূর্যের উদয়। শুধু তাই না, এ সমাবেশকে ঘিরে নতুন প্রাণের জগরণ হয়েছে এ অঞ্চলের তৃণমুল আওয়ালী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে।

রাজশাহীতে তথ্য ও প্রযুক্তির স্থাপনা অনেক কম। তাই এ অঞ্চলের মানুষের অনেক আশা রাজশাহীর যুবকরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে। এমন একটি প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী সেই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় সিলিকন সিটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সালের ২৩ ডিসেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পদ্মাপাড়ে ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই পার্কটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

হাইটেক পার্কের নির্মাণ শেষে এখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এই হাইটেক পার্ক নির্মাণ শেষ হলে ২০২১ সাল নাগাদ রাজশাহীকে সারাবিশ্বই চিনবে। ভারতের ব্যাঙ্গালুরু, আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন সিটির মতো বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে বিশ্বমানের সফটওয়্যার তৈরি হবে।

এ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। এমন আশাই সাধারণ মানুষের।

সমাবেশ থেকে আরো যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে সেগুলোর মধ্যে তালাইমারি চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ, ‘তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ (আইসিটি) সমুহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাগমারার মাড়িয়া কলেজ,

মোহনপুরের পাকুড়িয়া কলেজ, গোদাগাড়ির গুরগোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, তানোরের ডা. আবুবকর হাই স্কুল এন্ড কলেজ ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মান কাজ,

নগরীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস নির্মাণ, নগরীর কোর্ট হতে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

আরো উদ্বোধন করা হবে, বাগমারা উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারিত ভবন ও হলরুম নির্মাণ, নাটোর রোড রুয়েট হতে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বারনই আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন,

রাসিকের টিকাপাড়ায় ৬তলা বিশিষ্ট সিআরএইচসিসি নির্মাণ, প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পরিবার পরিকল্পনা রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকের অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা থেকে মহানগরীর অন্তর্ভূক্ত সোনাইকান্দি হতে বুলনপুর পর্যন্ত এলাকা রক্ষা প্রকল্প, চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের জন্য পয়ঃনিস্কাশন, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিক কাজসহ একাডেমিক কাম (৫ তলা), প্রশাসনিক ভবন (৪তলা) নির্মাণসহ ওয়ার্কসপ ও সার্ভিস এড়িয়া (১তলা) একই সঙ্গে পানি সংরক্ষন ভুমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরিন রাস্তা, সিমানাপ্রাচির, গেট ও গভীরনলকূপ স্থাপন,

গোদাগাড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পবায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, নগরীতে বনলতা বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারণ ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্লানকে দুর্যোগ ঝুকি সংবেদনশীলকরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করবেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর পবা উপজেলায় আসছেন। তিনি উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহীর পবায় এই প্রথম জনসভা প্রধানমন্ত্রীর। তাই পবা উপজেলার সাধারণ জনগণসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও রাজশাহী জেলা এবং মহানগর নেতৃবৃন্দের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই।

মহানগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে পবা উপজেলার গুরুত্ব, পরিচিতি ও যোগাযোগ শুধু ভৌগলিক কারণেই নয়। এর আরো একটি দিক হচ্ছে সংসদীয় আসন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে এবং নবম সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পবা উপজেলাটি ছিল মহানগরীর সাথে। অর্থাৎ বোয়ালিয়া ও পবা উপজেলা নিয়ে ছিল একটি আসন।

যে কারনে মাহনগরীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অবাধ বিচরণ ছিল পবা উপজেলা জুড়ে। আসন আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রের মানুষের মধ্যে পরামর্শ, ভালবাসা ও কাছাকাছি থাকা অটুট আছে।

তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবা উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে (এখন পর্যন্ত) জনসভায় ভাষণ দিলেও এর সফলতা নির্ভর করছে পবা, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের ওপরই। যে কারণে পবা উপজেলা, মহানগর ও জেলা নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে সফল করতে বদ্ধ পরিকর।

এরইমধ্যে মহানগর, জেলা ও পবা উপজেলায় বর্ধিত সভায় নেতৃবৃন্দের করণীয় বিষয়ে জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী মহিলা লীগ নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ সফল করতে পিছিয়ে নেই জেলার অন্যান্য উপজেলার নেতৃবৃন্দ। তারাও বর্ধিত সভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আগমন জানান দিচ্ছেন। জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলার আওয়ামী নেতৃবৃন্দ ও এমপি ইঞ্জি.এনামুল হক বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে রুপ দিতে বাগমারা প্রস্তুত। স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিন ও মহিলা এমপিও গণসংযোগ করছেন।

আর তানোর-গোদাগাড়ির এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় তিনি দেখভালের বিষয়টি পুরোদমে পর্যালোচনা করছেন। সাথে আছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে মহানগরী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের অনেকটা নির্ঘম রাত কাটছে। কারণ জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাঁধে গুরু দায়িত্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সাথে তরুন সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জনসভা সফল করতে জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকায় চলছে মাইকিং।

বসে নেই অন্যান্য দপ্তরও। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রাস্তা সংস্কারের কাজ। চলছে জেব্রা ক্রসিংয়ে রং তুলির আচড়। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে হরিয়ান চিনিকল এলাকায়। সাঁটানো হচ্ছে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোষ্টার।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পবা উপজেলায় প্রথম জনসভায় ভাষণ দিবেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাই এই উপজেলাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলাজুড়েই সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাঁটানো হয়েছে উন্নয়ন ও শুভেচ্ছা বাণীসম্বলিত ফেস্টুন-পোস্টার। তবে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সিন্ধান্ত মতে এবারে কোন ব্যানার ফেষ্টুনে নেতৃবৃন্দের ছবি নেই।

এদিকে শনিবার বিকালে সরোজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল হরিয়ান চিনিকল মাঠ ও হেলিপ্যাডের কাজ প্রায় সম্পন্ন। এই সভাস্থল নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক।

জানা গেছে, রোববার প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে আসবেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে হ্যালিপ্যাড তৈরীর দেখভাল করেন পবা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি আলমগীর কবীর।

পবা-মোহনপুর আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘সাবেক সফল রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান রাজশাহী মহানগরী ও এর চারপাশের এমনিতেই ভাল রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে জরুরি কাজের অংশ হিসেবে কিছু সংস্কার কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আজকের মধ্যেই সকল কাজ শেষ করতে পারব।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

6 thoughts on “উন্নয়নের বার্তা নিয়ে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী

  1. hoy hoy আমাদের দেশনেতৃী উন্নয়নের যোয়ার বয়ে আনবে “”””যে ভাবে ১৯৭২ এর পর থেকে আমরা শুধু এগিয়ে যাচ্ছি,,,,,,, আর অন্যান্য দেশ আগাচ্ছে ৯০% বেশী “আর আমরা ১০%,হারে আগাচ্ছি তাহলে আমরা কত আগাই যাচ্ছি “””””এভাবে আগইলে আমরা সবসময় মায়ানমার উপরেই থাকব তাই” না মামা”?

Comments are closed.