এক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে ২০ টাকা স্বস্তি নেই রাজশাহীর পেঁয়াজের বাজারে

রাজশাহী

এক দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ভারত সরকার পেয়াজের রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরই বাজারে এই অবস্থা দাড়ায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বাজারে বিদ্যমান অবস্থা বজায় থাকলে পেয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

যদিও বর্ধিত দরে এখনো পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়নি। বাজারগুলোতে এখনো পূর্বের দরে আমদানি করা পেয়াজ সংগ্রহে রয়েছে। ব্যবসায়ীদে বিরুদ্ধে অভিযোগ ভারতের এই খবরে ফয়দা লুপতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পেয়াজের দাম বাড়িয়ে দেশের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে অস্থির করে তুলেছে।
সাহেব বাজরের সবজি বিক্রেতা রেজাউল করিম জানান, রবিবার তিনি দেশি জাতের পেয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি করেছেন কেজি প্রতি ৭০ টাকায়। আর ভারতীয় জাতের পেয়াজ বিক্রি করেছেন ৫৫ টাকায়। অথচ এক দিন আগে শনিবার সেই পেয়াজ বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ৪৫ টাকা দরে। তিনি জানান, পাশে অবস্থিত মাস্টার পাড়ার পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা পেয়াজ, আদা ও রসুন জাতীয় পণ্যগুলো কিনে থাকেন। সেই বাজার থেকেই তাদেরকে এখন বেশি দামে পেয়াজ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই নির্ধারিত দরে বিক্রি করছেন। তবে বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেণ করে এই খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পেয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে রাজশাহী পাইকার ব্যবসায়ীয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার ভারত সরকার তার দেশে প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য নুন্যতম ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাদের দেশেও পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত দেশটির বাজার স্থিতিশিল রাখতে ভারত সরকার পেয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ঘোষণার আগে ভারত থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রতি টন পেয়াজ আমদানি করতেন ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে। আর শুক্রবার থেকে সেই পেয়াজের দর ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করায় হয়। এতে করে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকায়। এর সাথে যোগ হবে রয়েছে পরিবহন খরচ।

ভারত ছাড়া চীন, মিসর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ। যা ভারত থেকে করা আমদানির তুলনায়া সামন্য। বাংলাদেশের সোনা মসজিদ, হিলি, ভোমরা ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়। এদিকে ভারত থেকে যে পেয়াজ দুই চার দিনে পেয়াজ আমদানি করা সম্ভব অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিতে প্রায় মাস খানেক সময় লাগে।

দেশে চাহিদা অনুযায়ী পেয়াজ উৎপাদন বাড়ছে না। গত অর্থবছরে পেয়াজের উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। চাহিদার তলনায় যা নগন্য। তাই প্রতিবছর পেঁয়াজ আমদানি বেড়েই চলেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত থেকে ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি হয় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টন। ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রতিবছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেয়াজ দেশে উৎপাদিত হয়।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন