এবার পাবনায় ৩২৬টি মণ্ডপে পূজা

পাবনা রাজশাহী বিভাগ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য মন্দিরে মন্দিরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

এ বছর পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় ৩২৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৮টি পূজা মণ্ডপ বেশি হচ্ছে।

শারদীয় পূজা উপলক্ষে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সর্বত্র নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পূজাকে সামনে রেখে বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি চলছে আলোকসজ্জা ও ছাউনি তৈরির কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা দিন-রাত জেগে কাদা-মাটি, খড়-কাঠ আর সুতলি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ১৮ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব শুরু হবে।

সূত্র জানায়, জেলার ৯ উপজেলায় এবছর ৩২৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯টি উপজেলার মধ্যে পাবনা সদরে ৫১টি, আটঘরিয়ায় ১৪টি, ঈশ্বরদীতে ২৫টি, চাটমোহরে ৪২টি, ফরিদপুরে ২০টি, সাঁথিয়ায় ৫০টি, সুজানগরে ৫৫টি, ভাঙ্গুড়ায় ১৯টি এবং বেড়া উপজেলায় ৫০টি পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

পাবনা শহরের মদনমোহন মন্দিরে প্রতিমা শিল্পী বিশ্বজিত বিশ্বস জানান, দুর্গা পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা। আর এই প্রতিমা তৈরির জন্য আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন বিভিন্ন মন্দিরের পূজা আয়োজক কমিটি। তাই মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন তারা।mondir_978889859শহরের গোবিন্দবাড়ী অগ্রদূত মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী শ্রী ধনঞ্জয় পাল ধনু জানান, এখন প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ চলছে। এবার তিনি ১২টি প্রতিমার কাজ হাতে নিয়েছেন। ১৭ অক্টোবরের মধ্যে সবগুলো প্রতিমার কাজ শেষ করতে হবে।

বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জা, তোরণ ও প্যান্ডেল তৈরিতে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হবে।

পাবনা সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাদল চন্দ্র ঘোষ জানান, পাবনা সদর উপজেলায় এ বছর ৫১টি মন্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর সদর উপজেলায় ২টি পূজা বেশি হবে। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হবে।

পাবনা শহরের মদন মোহন মন্দিরের পরিচালক তপন কুমার সাহা জানান, প্রশাসন যেভাবে তাদের সহযোগিতা করছেন তাতে পূজা সুন্দর ভাবে পালিত হবে। ১৮ অক্টোবর দেবী বোধনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে।

২২ অক্টোবর নবমী ও বিজয়া দশমী। ২৩ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনে মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় এই উৎসব।

এ ব্যাপারে পাবনা পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বাংলানিউজকে জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গা পূজা উদযাপনের জন্য জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি কালীন যাতে প্রতিমার কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় সেজন্য আয়োজক কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি প্রতি বছরের মতো এবারও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে।