এবার ফিরলে ফেরার মতোই ফিরবেন নাফিস

খেলাধুলা

শাহরিয়ার নাফীস অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁর আবির্ভাব। ব্যাটিং স্টাইল, মুগ্ধতা জাগানিয়া সব শট, ইনিংসকে বড় করার সামর্থ্য—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেই শাহরিয়ার নাফীস নিজেকে চিনিয়েছিলেন অন্যভাবে। ওয়ানডেতে এক পঞ্জিকাবর্ষে এক হাজার রান করা বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর নাম আজও উজ্জ্বল রেকর্ড বইয়ে। সে শাহরিয়ার যেন দৃশ্যপট থেকে উধাও!

এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই হাসছে তাঁর ব্যাট। যেন জানান দিচ্ছেন, ‘আমি আছি, হারাইনি!’

এবার জাতীয় লিগে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শাহরিয়ারের নামটা সবার ওপরে। ৬ ম্যাচে ৭৯.৪৪ গড়ে রান করেছেন ৭১৫। পেয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। আর এ দুটিই এসেছে শেষ রাউন্ডে চট্টগ্রামের বিপক্ষে। প্রথম ইনিংসে ১৬৮-এর পর আজ অপরাজিত ছিলেন ১৭৪ রানে। ১৫ ওভার বাকি থাকতেই দুই অধিনায়ক ড্র মেনে না নিলে হয়তো ডাবল সেঞ্চুরি পেতে পারতেন।

এ নিয়ে শাহরিয়ারের আক্ষেপ নেই। এই বছরটায় কোনো আক্ষেপই থাকার কথা নয়। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭১০ রান করেছেন। চারটি সেঞ্চুরি, ৭১.২৫! ৩১-এ পা দিয়ে ফেলা শাহরিয়ার যেন প্রতিজ্ঞা করেছেন, এবার জাতীয় দলে ফিরলে ফেরার মতোই ফিরব।
সেই প্রতিজ্ঞায় এতটাই অটল, বরিশাল-চট্টগ্রাম ম্যাচে তো ঘোষণা দিয়েই সেঞ্চুরি করলেন। সেটিও জোড়া সেঞ্চুরি। আজ ম্যাচ শেষে শাহরিয়ার অবশ্য বললেন ‘না ঠিক তা নয়, চেষ্টা করেছিলাম। হয়ে গেছে।’ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশির তালিকায় শাহরিয়ার নবম।

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। বাংলাদেশ দলে ফেরার ব্যাপারে কী ভাবছেন? এমনিতে জাতীয় দলে এখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একবার দল থেকে ছিটকে পড়লে ফের সুযোগ পাওয়া কঠিন। বাস্তবতা মানছেন শাহরিয়ার। তবুও একটা সুযোগের অপেক্ষায় এ বাঁহাতি ওপেনার, ‘বাংলাদেশ সব সংস্করণে ভালো খেলছে। আমাকে কোনো জায়গায় সুযোগ পেতে হলে জায়গা তো খালি হতে হবে! সামনে ওই জায়গা যদি খালি হয়, তখন হয়তো আমার পারফরম্যান্স বিবেচনায় আসবে। এখন যেহেতু দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জন্য কঠিনই। তবে কখনো যদি জায়গা খালি হয়, তখন হয়তো একটা সুযোগ আসতে পারে। যেখানেই খেলি ভালো পারফর্ম করতে চাই। নইলে কেউ বিবেচনা করবে না।’

২০০৮ এ ভারতের নিষিদ্ধ লিগ আইসিএলে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই বছরের একটা বিরতি। এরপর ফিরে এসেছিলেন ২০১০-এ। ২০১৩-এর এপ্রিলে হারারে টেস্ট খেলার পর সেই যে ছিটকে পড়লেন, ফেরা হলো না আর। সুযোগ যে একেবারেই পাননি, তাও নয়। শাহরিয়ারের আত্মবিশ্লেষণ, ‘২০১৩ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্টে খেলে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো হয়নি। তাই…’

শুরুতে হইচই ফেলে দিয়ে কেন এখন এমন অনিশ্চয়তা? নিজের প্রতিভার প্রতি সঠিক বিচার করতে পেরেছেন কিনা, এ নিয়েও আক্ষেপ আছে তাঁর ভক্তদের। শাহরিয়ার মানছেন আপ্তবাক্যটাই, ‘মানুষের জীবনে ওঠা-নামা থাকবেই। এ নিয়ে আফসোস নেই।’

তবে হাল ছাড়েননি। কেবল একটা সুযোগের অপেক্ষায় শাহরিয়ার, ‘২০১৩-এর পর দলে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। দলও ভালো করছে। এ কারণে হয়তো সুযোগটা হয়ে ওঠেনি। তবে ২০১৪ থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলছি। দলে যদি কোনো জায়গা খালি হয়, বিসিবি এবং নির্বাচকেরা যদি আমাকে নিয়ে চিন্তা করেন, হয়তো সুযোগ আসতেও পারে। পারফর্ম যত বেশি করব, সুযোগ ততই ত্বরান্বিত হবে।’

‘সুযোগ’ অবশ্য একটা এসেছে। ফতুল্লায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামী পরশু অনুষ্ঠেয় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শাহরিয়ার। বগুড়ায় চট্টগ্রামের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরির পর এমনিতে খুশির ঢেউ মনে। এর মধ্যে আবার এ খবর—আনন্দের মাত্রা বেড়েছে! তবে আনন্দের মধ্যেই ভালো করার প্রত্যয় শাহরিয়ারের, ‘অবশ্যই চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।’
এবার যেন দলে ফিরলে ফেরার মতোই তিনি ফিরতে চান!