এবার রাবিতে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধার ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত বিভাগ একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরির ব্যানারে ভাষাশহীদদের পরিবর্তে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছে। আজ শনিবার ব্যানারের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এমন একটি ব্যানার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভাগের র‌্যালির একটি ছবিতে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সামনে একটি ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। ব্যানারের মাঝে লেখা, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। ব্যানারের বাঁ দিকে ওপরের অংশে রক্তের ছিটেফোঁটা ও নিচের অংশে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর ছবি। ডান দিকে ওপরে লেখা, ‘২১ আমার গর্ব’ ও নিচের দিকে শহীদ মিনারের ছবি। এর নিচে রয়েছে বিভাগের নাম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাতে যে ফেস্টুন নিয়ে আছেন, তাঁর দুটিতে দুজন বীরশ্রেষ্ঠর ছবি। অন্য দুটিতে বাংলা বর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল সাতটা থেকে বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল ও সংগঠন প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকালে সংগীত বিভাগ থেকেও প্রভাতফেরি বের করা হয়। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ব্যানারের প্রসঙ্গে সংগীত বিভাগের সভাপতি দীনবন্ধু পাল বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষাশহীদদের অবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা করার প্রশ্নই আসে না। প্রভাতফেরির ব্যানারে মুজিব শতবর্ষের লোগো, ভাষাশহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ সবারই ছবি রাখা হয়েছিল। হয়তো প্রেসে ভুলবশত কেবল বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’

দীনবন্ধু পাল বলেন, ‘ব্যানারে কেবল বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি এলেও, হাতের ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু, ভাষাশহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ সবার ছবিই ছিল। পেছনে থাকায় বা ছবি তোলার সময় হাত নামিয়ে নেওয়ায় হয়তো সেই ছবি দেখা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে সহ–উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারিতে বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানালে ক্ষতি নেই। তবে ব্যানারে ভাষাশহীদদের ছবি একেবারেই না থাকা বিভাগটির নির্বুদ্ধিতা। আশা করি, তারা এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন ভুল করবে না।’

খবর কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো