কথা থাকলেও রাজশাহীর বাজারে টাঙানো হয়নি পণ্যের মূল্যতালিকা

রাজশাহী

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানোর কথা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। এ ব্যাপারে রোজার শুরুতে ব্যবসায়িদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে সচেতন করেছে জেলা প্রশাসন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও নগরীর দোকানগুলোয় পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার জন্য ব্যবসায়িদের পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। তা সত্ত্বেও এর কোনো কার্যকারিতা চোখে পড়ছে না।

তবে নগরীর সাবেহ বাজারের কিছু পাইকারী দোকানে ওই তালিকা টাঙানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক অপূর্ব অধিকারী। তবে খুচরা বিক্রেতারা সেই তালিকা এখনো টাঙান নি বলে জানান তিনি। ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, রমজানের প্রথম দিন নগরীর সবজি বাজারে উত্তাপ ছড়িয়ে দামে। একদিনের ব্যবধানে সবজি ভেদে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। তবে তেল, ডাল ও চিনিসহ অন্য পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতেই। বাজার নিয়ন্ত্রনে টিসিবিও বিক্রি শুরু করেছে কয়েকটি পণ্য।

শুক্রবার নগরীর সাহেব বাজার, লক্ষ্মিপুর বাজার, শাল বাগান বাজার, শিরোইল বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ ব্যবসায়িরা তাঁদের দোকানে বিভিন্ন পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখেননি।

নগরীর অন্যতম খুচরা ও পাইকারী পণ্যের বাজার সাহেব বাজারে কয়েক শতাধিক দোকান রয়েছে। সেখানেই কোনো দোকানে পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানো নেই। তবে সাহেব বাজারের খুচরা তরকারি বাজারে যে তালিকা টাঙানো রয়েছে তাতে নাম রয়েছে ২৮টি পণ্যের।

তালিকার প্রথম দিকে চাল, গরু, খাসি ও মহিষের গোস্তের দাম উল্লেখ আছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে টাঙানো ওই তালিকায় সাঁটানো রয়েছে সম্প্রতি শেষ হওয়া গোস্ত ব্যবসায়ি সমিতির নির্বাচনে অংশ নেয়া এক প্রার্থীর পোষ্টার। ব্যবসায়িদের দাবি, দীর্ঘদিন ওই তালিকায় পণ্যের দাম হালনাগাদ করা হয়না। আবছাভাবে যেসব পণ্যের দাম চোখে পড়ছে তা লিখা হয়েছে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট।

নগরীর পাইকারী বাজার খ্যাত মাস্টারপাড়া বাজারের ব্যবসায়িরা বলছেন, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে একটি মূল্যতালিকা বাজারের একটি স্থানে রাখা হবে বলে পৃথক পৃথক দোকানে টাঙানো হয়নি। তবে এই একটি তালিকাও টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়নি।

পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, শসা প্রভৃতির খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়িরা মূল্যতালিকা না টাঙানোর কথা স্বীকার করেছেন তারা। ব্যবসায়ি সমিতি এ নিয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে জানিয়েছেন। তবে মাঝে মধ্যেই বাটখারা পরিমাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবসায়িদের সমিতি সতর্ক করছে বলে জানান ব্যবসায়িরা।

ক্রেতারা বলছেন, মূল্য তালিকা টাঙানো হলে ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে অনেক সুবিধা হয়। কিন্তু ব্যবসায়িরা তা মানছেন না। ফলে পণ্যের দাম নিয়ে অন্ধকারেই থাকতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এসময় ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান সাধারণ ক্রেতারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা শামিমূল হক জানান, রমজান শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনাকালে ব্যবসায়িদের পণ্য মূল্য তালিকা টাঙানোর ব্যপারে সর্তক করা হয়েছিলো। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ি মূল্য তালিকা টাঙাননি। নিয়ম মাফিক মূল্যতালিকা টাঙানো না থাকলে ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জানান, রমজানের দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়া রমজানে দ্রব্যমূল্য মনিটরিংয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ওই কমিটির সদস্যরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

শীর্ষনিউজ