করোনা নিয়ে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ২৫ মার্চ

জাতীয়

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় যেসব কথা বলা দরকার, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সেই করণীয় সম্পর্কে অবশ্যই জাতিকে জানাবেন। এটাই প্রত্যাশা।

সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন৷

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সারাদেশ লকডাউন করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, আমি যে দায়িত্বশীলতার কথা বলেছি, মাথা গরম করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিত হবে, কখন কী করতে হবে! আমি সবার কাছে অনুরোধ করবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। সরকারের প্রতি আস্থা রাখুন, যখন যেটা বলতে হবে যখন যেটা করতে হবে, যথাসময়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গতকাল বিএমএ এর নেতৃত্বে ডাক্তারদের নিয়ে ৫শ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। ডাক্তারদের এই কমিটি স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বা যাদের সঙ্গে দরকার যোগাযোগ রেখে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ব্যাপারে আমাদের স্বাস্থ্য উপ-কমিটির সঙ্গে সহযোগিতা করে দায়িত্ব পালন করে যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। তিনি বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং দলীয়ভাবে আমাদের পার্টিকে নির্দেশ দিয়েছেন। সচেতনতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন পারে ভয়াবহ সংকট থেকে মুক্তি দিতে। এই ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা মানবিকতা ও দেশপ্রের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এটাকে যুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করে এই যুদ্ধ মোকাবিলায় যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষা করে অপরকে বাঁচাতে হবে। এই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য সবাইকে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে প্রথম দিকের খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।  এমনকি সংসদের বিশেষ অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া দলীয়ভাবেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে জনগণের মধ্যে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে। জনসমাগম হতে পারে এমন কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে। সঠিক তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মনে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করতে হবে।’

কাদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার ঘোষিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। করোনা ভাইরাস নিয়ে সব ধরনের মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার নিয়ে সতর্ক থাকতে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ