কামারুজ্জামানের ফাঁসি: শেরপুরে স্বস্তি

বগুড়া

shr

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতারিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতা এবং স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মানুষ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু বলেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা গোটা বাংলাদেশ কলঙ্কের দায় থেকে মুক্তি পেল। জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান জানান, আমরা কামারুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছিলাম। তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে জাতি কলঙ্ক মুক্ত হলো।

কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি বাজিতখিলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী জানান, ৪৪ বছর পর কামারুজ্জামানের বিচারের রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বাজিতখিলাবাসী কলঙ্কমুক্ত হলো। মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘কামারুজ্জামানের বিচারের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আমি খুঁশি।’

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অন্যতম সাক্ষী মনোয়ার হোসেন খান ওরফে মোহন মুন্সি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হইবার চাইছিলাম কিন্তু কামারুজ্জামান আমাকে সুরেন বাবুর বাড়ির টর্চার সেলের দারোয়ান বানাইয়া রাখছিল। কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আমার আত্মা শার্ন্তি পাইল।’

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধের আরেক সাক্ষী মজিবুর রহমান পান্নু বলেন, ‘কামারুজ্জামান ও তার দোসররা একাত্তরে আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে আহম্মদ নগর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে সেখানে অনেকের সঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হলেও আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই। আমি কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আনন্দিত ।

মুক্তিযোদ্ধা শহীদ গোলাম মোস্তফা হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, ‘১৯৭১ সালে ৩০ আগস্ট কামারুজ্জামান আমার ভাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। আমি তার ফাঁসির রায় কার্যকরে খুঁশি।’

সোহাগপুরের বিধবা ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধের সাক্ষী হাফিজা বেওয়া ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় কথা শুনে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, ‘কামারুজ্জামানের ফাঁসি দেইখা যাবার পাইলাম । আমাগো পরান আজ ঠান্ডা হইল।’

উল্লেখ্য, কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হামিদুল হক, শেরপুরে কামারুজ্জামানের স্থাপন করা আলবদর ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্রের দারোয়ান মনোয়ার হোসেন খান মোহন, মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী (বীর প্রতীক), মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল মান্নান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ গোলাম মোস্তফা হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই মোশাররফ হোসেন তালুকদার, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামানের বড় ভাই ডা. মো. হাসানুজ্জামান, লিয়াকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের পুত্র জিয়াউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান মো. জালাল উদ্দিন, শেরপুর জেলার ‘বিধবাপল্লী’ নামে খ্যাত সোহাগপুর গ্রামের নির্যাতিত তিন নারী সাক্ষী (ক্যামেরা ট্রায়াল), মুজিবুর রহমান খান পান্নু এবং দবির হোসেন ভূঁইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.