কুহুকথন ; একটি রোমান্টিক ছোটগল্প

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য

সচেতন ও আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মেয়ের রোমান্টিক একটি কাহিনী।

লিখেছেন: ফাহমিদা আফরিন সিথি

***পর্ব-০১***

কফিশপে বসে আছি। বুননের আসার কথা, এখনো আসে নি। হঠাৎ শপের ছেলেটি ৩কাপ কফি দিয়ে গেলো। আমি অর্ডার দিই নি এসব।

-এগুলো কার!
– আপনাদের টেবিলের জন্য অর্ডার করা হয়েছে।
– কে করেছে? আপনাদের মানে? আমি তো করিনি।
– স্যার করেছেন।
– স্যার! কোন স্যার!!
– শপেই তো ছিলেন। উনি বলে গেছেন, আসবেন।

বলেই ছেলেটা চলে গেলো। আমি তো চিন্তায় পড়ে গেছি ততোক্ষণে। কে আবার অর্ডার দিলো! খাব? নাকি খাব না? কিছু মিশিয়ে দিয়েছে কি না কে জানে! তাহলে কি সাংঘাতিক কান্ড হতে পারে!

-এক্সকিউজ মি, আপনি কুহু?
লাইনটা শুনে হার্টবিট দ্বিগুণ হয়ে গেলো। এত সুন্দর কন্ঠস্বর! মুখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেলাম তাকে।
– জ্বী। আপনি কে!
– আমি অভ্র। বসতে পারি?
– কিন্তু এত জায়গা থাকতে এখানেই বসবেন কেন! আমার নাম কিভাবে জানলেন?
– কথা ছিল। বসে বলি?
– আচ্ছা। বসুন।
– কফি আমিই অর্ডার দিয়েছি।
– আপনি! আপনি কিভাবে জানেন, আমার ফ্রেন্ড আসবে! ৩টার অর্ডার দিয়েছেন!!!
– আমি জানি।
– কিভাবে! কে আপনি?
– বললাম তো আমি অভ্র।
-আচ্ছা। কিভাবে চিনেন আমাকে?
– নিজের হবু বউকে চিনব না!
– কি! কে!!
– আপনি।
– এটা কেমন মস্করা! মেজাজ খারাপ হচ্ছে কিন্তু…

ততোক্ষণে বুনন চলে এসেছে।

আমি আবার বলতে শুরু করলাম
– আপনাকে তো ভদ্র ঘরেরই মনে হয়।
– আপনাকেও। একটা কথা বলব?
– অনেক তো বললেন, এটা বাকী রাখতে হবে না।
– থাক। বিয়ের দিন বলব।
– আপনি অন্য কোথাও গিয়ে বসুন।
– এভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছেন! কফিটা খান, ঠান্ডা হয়ে গেল যে…
– রাখেন আপনার কফি, থাকেন আপনি।

এই বলে চলে এলাম ওখান থেকে। মানুষের আর কাজ নেই খেয়ে দেয়ে, উল্টা পাল্টা কাহিনী না করলে ভালো লাগে না। ভালো দেখতে হইলেও আস্ত পাগল। এগুলা যে কই থেকে আসে, বুঝি না।। কিন্তু কেমন পরিচিত লাগছিল। ধরতে পারছিলাম না ঠিক।।

***পর্ব-০২***

তাড়াহুড়ো করে রিক্সায় চড়লাম। টিউশনিতে যাব। সকাল সকাল এখানে রিক্সা পাওয়াই কষ্টকর।
কিছুদূর যাওয়ার পর এক ছেলে ইশারা দিয়ে রিক্সা থামালো। আরে! এ তো সেই ব্যক্কলটা।

– এই আপনি রিক্সা থামাইছেন কেন?
– আমি যে এখানে দাঁড়িয়ে থাকি আপনার জন্য, দেখেন?
– না। দেখি নি। দেখে কি করব?
– দেখবেন কিভাবে? চোখ তো আকাশে রেখে ঘুরেন।
– আমার চোখ আকাশে রাখি, পাতালে রাখি, আপনার কি?
– অনেক কিছু।
– হাতের কাছে কিছু নাই, তাই কিছু বললাম না।
– থাকলে কি করতেন?

আমি কিছু না বলে রিক্সাওয়ালাকে বললাম সামনে যেতে বললাম।

পরেরদিন দেখলাম দূরে ওই একই জায়গায় কেউ লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আল্লাহ গো! মারবে নাকি? কি অদ্ভুত! পাগল নাকি!!
আমি যত দোয়া-কালেমা পারতাম সব পড়া শুরু করলাম। ভয়ে তো পারলে হাত-পা পেটের ভেতর ঢুকে যাচ্ছিলো। সত্যিই সে রিক্সা থামালো।

– নামেন।
– ক্যান? নেমে কি করব?
– লাঠি নিয়ে আসছি।
– কিইই! আপনি আমায় হুমকি দিচ্ছেন! এত বড় সাহস!
– না,না। তা নয়। আপনি মারতে চেয়েছিলেন।
– এ্যাহ! আমি! তো আপনি মার খেতে আসছেন?
– না। আপনার ইচ্ছাপূরণ করতে আসছি।
– অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে যেন এখানে আর দাঁড়াতে না দেখি।
খানিকটা বিমর্ষভাবেই সে বললো,
– কেন?
– আমার ইচ্ছা।

সে আর কিছু বললো না। চুপচাপ হাঁটা দিল। একবারও তাকালো না।

এরপর আর অনেকদিন দেখি নি। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়।

***পর্ব-০৩***

ক্রিং…ক্রিং….ক্রিং…..সাত সকালেই ফোনের এমন কর্কশ ডাকাডাকি একদম ভালো লাগে না। ঘুমের ঘোরেই রিসিভ করলাম,

– হ্যা..লো.. আ..স..সা..লা….
– আরে আমি বুনন।
– হু। এত সকালে!!
– তুই কিছু জানিস না?
– কি জানব?
– কিছুইই না। অভ্র হাসপাতালে।
– অভ্রটা কে?
– এইইই তুই ঘুম থেকে উঠ, উউউঠ।

চিৎকার শুনে এইবার উঠে বসলাম। এবার মনে পড়লো সে কে।

– আল্লাহ! কি বলিস! কেন? কি হইছে? কিভাবে! কই আছে এখন?
– অতো সময় নাই। আমি বের হচ্ছি। তুই স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়া। পিক করব তোকে।
– হু।

কি শুনলাম আমি! আমার মাথা ঘুরছে কেন? কিছুই বুঝতে পারছি না। মানে কি?
কোনমতে তৈরি হয়ে বের হলাম।

আচ্ছা, বুনন আর ওই লোকটা মিলে মজা করছে না তো? হতেও তো পারে। আবার না-ও তো হতে পারে। উফফ, ভালোই লাগছে না।

যথারীতি গাড়িতে চড়ে বসলাম। আমি বুননকে জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় কি হয়েছে। ও বললো নিজেও তেমন কিছু জানে না। গিয়ে দেখতে হবে।
বসে রইলাম চুপচাপ। গিয়ে পৌছাঁলেই বুঝা যাবে।
ওমা! এ তো সত্যি হাসপাতাল! তার মানে সত্যি এক্সিডেন্ট করেছে! আমি দ্রুত ভেতরে গিয়ে ঢুকলাম।

– আস্তে যা কুহু, পড়ে যাবি। (বুনন)

আমি ততোক্ষণে রিসিপশনে পৌঁছে গেছি।
– আচ্ছা, এখানে অভ্র নামের কোন রোগী আছে?
– ম্যাম, পুরো নাম?

আমি তো পুরো নাম জানি না। বুনন বলে দিল, অর্ণব মাহমুদ অভ্র।
নামটা শুনেই যেন আমি ধাক্কা খেলাম। অর্ণব!! অবশ্য তখন অতো সময় নেই যে আমি বুননকে কিছু জিজ্ঞেস করব। রিসিপশনিস্ট আমার দিকে তাকালো,

– উনি আপনার কি হন?
– ফ্রেন্ড (বুনন)
– তাড়াতাড়ি বলুন না? (আমি)
– উনি ২০২ নাম্বার রুমে আছেন। সিঁড়ি দিয়ে সোজা উপরে উঠে যান।

আমি তো দৌড়। তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে পা পিছলিয়ে গেল, সাথে ফ্রি তে হালকা মচকেও গেল। আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। গিয়ে হুড়মুড় করে দরজা দিয়ে ঢুকলাম।
একি!! এ কি দেখছি?
হতচ্ছাড়া পাজি বেয়াড়া আমার বন্ধু-বান্ধব দাঁড়ানো, সাথে ওই লোকটা। এত খারাপ কেন সে!!

– হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থডে……(সমস্বরে)

আমার মেজাজ তখন সপ্তম আসমানে চড়ে গেছে।

– আব্বেহ ইয়ার!! হোয়াট দ্যা হেল ইজ গোয়িং অন হিয়ার!!
আ..আ..উউহহ।

মনে পড়লো পায়ে ব্যাথা। ধপ করে পা ধরে বসে পড়লাম ফ্লোরে। একে তো রাগের চোটে জ্বলছি, অপরদিকে পায়ের ব্যথায় মরছি।

– এ কি! বসে পড়লেন যে?(অভ্র)

ততোক্ষণে আমার চোখ বেয়ে টুপটাপ বৃষ্টি ঝরছে। কিছু বলারই তো নেই।

– পায়ে কি হয়েছে? ব্যথা পেয়েছেন! দেখি?
-এই আপনি আমাকে ধরবেন না। দূরে থাকেন। আমি বাসায় যাব।
– চুউউপ, কথা কম। (প্রচন্ড ধমক)
– ছাড়ুন, আপনাকে কোলে তুলতে হবে না। আমি উঠে যেতে পারব।
– এটা আমার দায়িত্ব। রোগী সামনে নিয়ে ফেলে রাখা সম্ভব না।
– কিসের দায়িত্ব??

সে আমাকে নিয়ে বেডে বসিয়ে দিল। নার্সকে বলে ব্যান্ডেজ আনিয়ে ব্যান্ডেজও করিয়ে দিল। তারপর হেসে বললো,

– আমি একজন ডাক্তার। এখনো বাচ্চাদের মত কাঁদছেন কেন?
– ভালো লাগছে তাই। আমাকে বাসায় যেতে দিন।
– তাহলে এভাবে আসলেন কেন?
– আপনি তো মিথ্যে বলে আনলেন।
– কে মিথ্যা বলেছে?
– আপনি নাকি হাসপাতালে..
– হ্যাঁ। এটা কি হাসপাতাল না!!
– প্লিইইইইইইজ। আমি বাসায় যাব।
– কেকটা কাটুন।
– না, কাটব না।
– আচ্ছা, আচ্ছা। শান্ত হোন। কি গিফট চাই বলুন?
– কিচ্ছুউউউউ না। আমিইই শুধু চাইইই, আপনি এসব বন্ধ করুন। আর ভালো লাগছে না। পিছু ছাড়ুন।
– আপনি গিফট চাইলেন, আমি দিব না। তা হয় না। আচ্ছা, আমি আর জ্বালাব না।
কিন্তু আপনি এখনো আমাকে চিনতে পারেননি?
– হ্যাঁ। চিনেছি।
– সত্যি!!
– জ্বী। আপনি সেই ব্যক্কলটা যে, অর্ণব মাহমুদ আইডির মালিক।
– ব্যক্কল!!
– ব্যক্কলই তো। কত মেয়ে পাগল আপনার জন্য, আপনি এখানে এসে ছ্যাঁচড়ামি শুরু করছেন! ফ্রেন্ডদেরও হাত করে ফেলছেন।
– আর কিছু বলবেন?
– জ্বী। ভালো থাকবেন। বুনন তুই চল আমার সাথে, তোর খবর আছে। চল।

***পর্ব-০৪***

ঘোমটা টেনে গত ১০ মিনিট ধরে একটানা বসে আছি। এটা মনে হয় আমার জীবনের একটা রেকর্ড, কোনো নড়াচড়া ছাড়া আমি এভাবে বসে আছি। চরম বিরক্ত লাগছে। আমার সামনে যারা বসে আছে তারাও খুব একটা কায়দা করতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। মোটামুটি তাদের দেখে হতভম্বই লাগছে। লাগুক, এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই আমার কাছে।

পাত্রী দেখতে এসে সাধারণত দেখতে পাওয়া যায় শাড়ী-গহনা পরা আর মেকআপ করা সুন্দর সাজানো গোছানো একটা শো-পিস। তাহলে ব্র‍্যান্ড বুঝা যায় আর কি, ঘরে সেটা কেমন মানাবে আন্দাজ করা যায়, দরদাম করতেও খানিকটা সুবিধে হয়। কিন্তু আমার বেলায় হয়েছে পুরাই আলাদা। একটা নীল-আকাশীর মিক্সড কাজ করা কামিজ পরা, ভারী গহনা বলতে কিছুই নাই। মেকআপ বলতে বান্ধবীরা হালকা লিপস্টিক আর কাজল দিয়ে দিয়েছে। তবুও সেটা এক প্রকার অনিচ্ছাকৃত। এত তামাশা আমার ভালো লাগে না।

–মা, একটু দাঁড়াও তো।
— জ্বী।

অগত্যা দাঁড়াতে হলো। মনে হচ্ছিল কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে, এবার আমার ফাঁসির রায় দিয়েই দিবে। পিছনে মুখ টিপে টিপে হাসির শব্দ পাচ্ছিলাম। বেদ্দপগুলা বুঝতেই পারছিলো আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে, তারপরও কি শুরু করছে! মাইর আছে সবগুলার কপালে।

–ঠিক আছে, ঠিক আছে। বসো।
–জ্বী। আপনার ছেলেও যদি একটু দাঁড়াতো…
–ছেলে দাঁড়াবে কেন!
–আমি দাঁড়ালাম যে….

ছেলে দাঁড়ালো। হুম, ঠিক আছে আর কি চলে। তারপর কতগুলো হাবিজাবি কি সব জিজ্ঞেস করলো। অনেক্ষণ পর ছেলে বললো,
-আমি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাই আলাদা।

আমার দৃষ্টি ততক্ষণে উনার দৃষ্টিকে আড়পাড় করে ফেলেছে। শিয়ালের যেমন মুরগি দেখলে চোখ চকচক করে উঠে, ওইরকম। আহা! এই তো আমি চাই। আমি ভাল মেয়ের মতো বললাম,
-জ্বী। পাশের রুমে আসেন।

বলেই উঠে পাশের রুমে চলে আসলাম। অপেক্ষা করছি, আসুক আজ। ওর চৌদ্দগুষ্টির বিবাহের শখ আজ মিটিয়ে দিব। কিছুক্ষণ পর মহারাজ আসলেন।

-আপনার তো খুউব সাহস! বাসা পর্যন্ত চলে আসছেন!
-জ্বী। আসলাম। ভালো আছেন?
-হুম ভালো। কি জন্য ডাকছেন?
– আমি কেমন আছি, সেটা জিগ্যেস করলেন না?
– এ প্রশ্নের সত্যি উত্তর দেয় কয়জন?
– আমি তো দিতাম আপনাকে।
– আমাকে! হুয়াই?
– এমনি। বলেন, আমাকে আপনার কেমন লেগেছে?
– খুব চালাক একটা গাধা।
– কেন?
– এমনি।
– আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।
– ভালো। স্বাভাবিক।
– বিয়ের পরও আপনি এভাবে কথা বলবেন?
– অম্মাইখোদা! আমি কখন বলছি আপনাকে বিয়ে করব?
– জ্বী, আপনিই আমাকে বিবাহ করিবেন।
– থামেন, মস্করা বাদ দেন। শুনেন, এর আগে আমার ৫টা বয়ফ্রেন্ড ছিল।
– তাই নাকি! ভালো হয়েছে ব্রেকাপ হইছে, না হলে আপনাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগতো।
– অনেক কিছুই হইছে। প্লিজ, অন্য মেয়ে দেখেন। আপনি তো দেখতেও মাশআল্লাহ।
– আপনি খুব মজার মানুষ। আমি জানি আপনার কোন বয়ফ্রেন্ডই ছিল না।
– ওই মিয়া, আপনারে বলছি যেহেতু বয়ফ্রেন্ড ছিল, তার মানে ছিল।
– আচ্ছা। তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আজ অন্তত এখানে তান্ডব নৃত্য না করুন। আব্বা-আম্মার সামনে মানসম্মানের ব্যাপার। রাগ তো পরেও করতে পারবেন।
– উফফ, আপনি তো আচ্ছা ত্যাড়া।।আমিই বারণ করে দিব। ছেলে পছন্দ হয় নাই।
– ওহ। কি সমস্যা আমার মধ্যে?
– আপনিই একটা সমস্যা। এই বিয়ে-টিয়ে ভাল্লাগে না।
– করবেন না বিয়ে কখনো?
– না করলেই বা কি যায় আসে?
– প্লিজ আমাকে করেন।
– মামার বাড়ির আবদার??
– না, শশুড় বাড়ির আবদার।
– আপনার আর কিছু বলার আছে?
– হ্যাঁ, আছে তো।
– কি?
– বিয়ের দিন বলব।।
– সে আশায় বালি। আমি পালাবো।
– দেখব।
– দেইখেন। যান এখন।
-জ্বী, আসি।

অবশেষে তার আরো কিছুক্ষণ পর বিদায় হয়ে আমাকে নিস্তার দিলো। কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে গেলো আর কি। ভালো হইছে, অনেক কথা বলতে হইছে আজকে, এটা পাওনা ছিল। উফফ। আমি তো বলে দিছি পোলা ভাল্লাগে নাই। কিন্তু বাসার সবার তো ছেলে ভালো লেগেছে। গেছে তো গেছে, ঝামেলা পাকায় দিয়ে গেছে। বান্ধবীরাও মজা নিচ্ছে। নেক্সট টাইম ছেলেরে পাইলে হাড্ডি ভাঙমু পিঠের।

(১৭দিন পর______)

-এত চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছ যে! কথা বলো না কেন এখন? কি! লজ্জা লাগছে?
– না, আসলে। আগে কখনো বিয়ে করিনি।
– এটা কি ছেলেদের প্রথম বিয়ের পর জাতীয় ডায়লগ?
– বলা যেতে পারে।
– কিছু বলতে চেয়েছিলে… বিবাহের পর।… বলিয়া আমাকে উদ্ধার করো।
– ইয়ে…মানে।। হুমম। আসলে বলতে চেয়েছিলাম… “ভালোবাসি। প্রেমিকা হবে আমার? অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাব না, সত্যি। প্রমিস।”