কৃষিতে ক্ষতি ৪ কোটি টাকা: চারঘাট-বাঘায় ঝরেছে আম

চারঘাট বাঘা রাজশাহী

aam

কালবৈশাখি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট উপজেলাও। শনিবারের ঝড়ে আম সমৃদ্ধ এ উপজেলায় শুধু কৃষিতেই ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও কালবৈশাখীর আঘাতে ঘরবাড়ী, গাছপালা, মুরগির খামারসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসার টিন উড়ে গিয়ে বিধ্বস্ত একটি এলাকায় পরিনত হয়েছে বাঘা ও চারঘাট। কালবৈশাখির আঘাতে বাঘায় দুই জনের মৃত্যু ও আহত ৬ এবং চারঘাটে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

চারঘাট উপজেলায় কালবৈশাখীর আঘাতে ঘরবাড়ী, গাছপালা, মুরগীর খামারসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসার টিন উড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিমপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকমাড়িয়া গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি কালবৈশাখীর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। গ্রামটিতে রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের মধ্যে রাত কাটাবে এমন উপায় নাই তাদের।

এ দিকে কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড চারঘাট উপজেলা পরিদর্শন করতে গিয়ে এর সত্যতা পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনকে সান্তনা দিচ্ছেন এবং ধর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সকলকে আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। অনেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতা করার আশ্বাস দিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন ইউএনও এর জন্য মহান আল্লাহ পাকের নিকট প্রার্থনা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, কালবৈশাখীর আঘাতে চারঘাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রায় ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ বাড়ীঘর একেবারেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ ছাড়াও প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কাচা পাকা বাড়ী ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যারা এখন চরম দৃর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। তবে তাদের ঘরবাড়ী অতি দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করার জন্য সরকারের নিকট আর্থিক সহযোগীতার অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, চারঘাট একটি আম প্রধান এলাকা। আর আম প্রধান এলাকা হিসেবে কালবৈশাখীর তান্ডবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ আমসহ কৃষিক্ষেত্রে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যেটা পুরন হওয়া কঠিন। অপর দিকে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এর মধ্যে নিমপাড়া ইউনিয়নের পাইটখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও শলুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাইটখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ ক্লাস রুমের টিন একেবারেই উড়ে গিয়ে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জেলার চারঘাট উপজেলা আমের জন্য নাম করা। ঝড়ের কারণে প্রচুর পরিমানে আম ঝরে যায়। আমসহ বিভিন্ন ফল মুল ও গাছ গাছালী ভেঙে ক্ষতি হয়। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। চরম বেকায়দায় চারঘাটের কৃষি বিভাগ। আর কালবৈশাখীর তাণ্ডবে রক্ষা পায়নি বিদ্যুতের খুটিও। খুটি উপড়ে তার ছিড়ে যাওয়ায় বিকেল থেকেই অন্ধকারে চলে যায় চারঘাটসহ পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলা। চরম বেকায়দায় পড়েন এদুটি উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর চারঘাট জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের বলেন, কালবৈশাখীর আঘাতে চারঘাটে ১০টি এবং বাঘায় ৭টি বিদ্যুতের খুটি উপড়ে তার ছিড়ে গেছে। এতে করে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, রাত দেড়টায় চারঘাট উপজেলা প্রশাসন এবং রোববার দুপুর নাগাদ চারঘাট বাজার, পুলিশ একাডেমী, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হলেও বাকীগুলো এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

তবে আগামী সোমবার নাগাদ চারঘাট ও বাঘা উপজেলা এলাকায় বিদ্যুত সচল করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সব মিলিয়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চারঘাট এখন লন্ডভন্ড।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছুটে গেছি কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না হলেও সান্তনা দিয়ে তাদের ধর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছি। তবে সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগীতার জন্য উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন।

সুত্রঃ সানশাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published.