কোরবানির কিছু জরুরি বিধান

ধর্ম কথা

কোনো ব্যক্তি যদি পশু খরিদ করার সময় শরিক না নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, পরবর্তিতে শরিক নিতে চায়, তাহলে ক্রেতা গরিব হলে শরিক নিতে পারবে না, ধনী হলে পারবে।

যার সব উপার্জন বা অধিকাংশ উপার্জন হারাম, তাকে শরিক হিসেবে নিলে অন্যদের কোরবানিও ফাসিদ হয়ে যাবে।

যদি কোরবানির পশু কেনার সময় সব অংশীদারের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করার নিয়ত থাকে, তাহলে পশু খরিদ করার পর ৭ জন পর্যন্ত নতুন অংশীদার নেওয়া যাবে। কিন্তু যদি তাদের মধ্য থেকে একজন নফল কোরবানি করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আর অতিরিক্ত শরিক নেওয়া যাবে না। তাই শরিক নেওয়ার বিষয়টি পশু খরিদ করার আগেই চূড়ান্ত করে নেওয়া উচিত।

ঋণ করে কোরবানি করা
কোনো ব্যক্তির ওপর সম্পদের হিসাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। কিন্তু তার কাছে নগদ অর্থ নেই, আবার সে কোরবানি জন্য সম্পদ বিক্রিও করতে চায় না, তাহলে সে প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও কোরবানি করবে। যেমন সে তার অন্য প্রয়োজনে ঋণ করে থাকে।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি
মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করা জায়েজ আছে। এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি সওয়াবের অধিকারী হবেন এবং এ কোরবানির গোশত সাধারণ কোরবানির মতো যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবে- খেতেও পারবে আবার দানও করতে পারবে। তবে কোরবানি যদি মৃত ব্যক্তির ওসিয়তের ভিত্তিতে হয়, তাহলে সে কোরবানির গোশত কোরবানিদাতার ওপর খাওয়া জায়েজ নয়, বরং তা সদকা করে দিতে হবে।

জীবিত মানুষের নামে কোরবানি
জীবিত মানুষ একজন অপরজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করলে কোরবানি শুদ্ধ হয় এবং যার পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সে তার সওয়াব পেয়ে যায়। আর যদি তার নির্দেশক্রমে হয়, তাহলে তার ওয়াজিব কোরবানি আদায় হয়ে যায়।

নিজ এলাকায় কোরবানি করা
নিজ এলাকায় কোরবানি করা উত্তম। অন্য এলাকায় কোরবানি করালেও জায়েজ আছে।

হাজিদের কোরবানি
কোনো হাজি যদি ৮ জিলহজের ১৪ দিন আগে মক্কায় পৌঁছে তাহলে, সে মক্কায় মুকিম সাব্যস্ত হবে। সে যদি নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তাহলে তাকে হজের কোরবানি ছাড়াও ভিন্ন একটি কোরবানি করতে হবে। এ কোরবানিটি হারামের এলাকায় করা আবশ্যক নয়। নিজ এলাকায়ও করা যায়। তবে সে যদি ৮ জিলহজেও ১৪ দিন আগে মক্কায় না পৌঁছে, তাহলে সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার ওপর সাধারণ কোরবানি ওয়াজিব নয়। তামাত্তু বা কেরান হজ করলে দমে শুকুরের কোরবানি করতে হবে।

নবী করিম (সা.)-এর নামে কোরবানি
নবী করিম (সা.)-এর নামে কোরবানি করা জায়েজ আছে এবং গোশত বণ্টনের বিধান সাধারণ কোরবানির মতোই।

চামড়ার বিধান
কোরবানির চামড়া যদি বিক্রি না করে আপন অবস্থায় রেখে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, তাহলে ওই টাকা সদকা করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে এ টাকা দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ এতে দান ও করা হয় আবার দ্বীনি ইলম শেখার ক্ষেত্রে সাহায্যও করা হয়। চামড়ার টাকার মূল্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা বৈধ নয়।

কোরবানির চামড়ার টাকা মসজিদ মাদরাসা নির্মাণকাজে বা বেতন বাবদ বা অন্য কোনো নেক কাজে খরচ করা জায়েজ হবে না।

যেসব কোরবানির গোশত সদকা করা ওয়াজিব
১. মান্নতের কোরবানির গোশত, ২. মৃত ব্যক্তির ওসিয়তের ভিত্তিতে তার সম্পদ থেকে কোরবানি করা হলে, ৩. কোরবানির পশু খরিদ করার পর সে পশু বাচ্চা দিলে সে বাচ্চা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব, ৪. কোরবানির দিনগুলোয় কোরবানি করতে না পারলে পরবর্তিতে পশু ক্রয় করে জীবিত সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি জবেহ করে দেয়, তাহলে গোশত সদকা করা ওয়াজিব।

অংশীদারদের কোনো একজনের নিয়ত যদি থাকে বিগত বছরের কোরবানি কাজা করা, তাহলে সবারই কোরবানির গোশত সাদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।