খরায় পুড়ছে রাজশাহী অঞ্চল

রাজশাহী

সপ্তাহ ধরে সূর্যের তাপ বাড়ছে। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরম বাতাস শরীরে লাগছে আগুনের হলকার মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই এতটুকু। শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে কাবু হয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এদিকে মাঠের ধান নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়েছে। একারণে প্রয়োজনিয় পালিও পাচ্ছে না চাষিরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আকাশে কোনো মেঘের বলয় নেই। সে কারণে খাড়া সূর্য সরাসরি পড়ছে মাটিতে। সে জন্য তাপমাত্রা বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ি, বুধ্বার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজীব খান জানান, সাধারণত এটা গরমের মৌসুম। সে কারণে তাপমাত্রা এ ধরনের থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের তাপমাত্রা আগামীতে আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
এই দাবদাহের দাপটে মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। তীব্র গরমের কারণে দুপুরের দিকে বেশিরভাগ রাজপথ প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।একটু স্বস্তির জন্য অনেকে গাছতলা বা পার্কে গিয়ে বসার চেষ্টা করেছেন। সেখানেও তপ্ত হাওয়ার ছোবল। যেন বাতাসে আগুনের হল্কা। এই পরিস্থিতিতে শুধু মানুষেরই নয়, পশুপাখির প্রাণও ওষ্ঠাগত।

নগরীর দড়িখরবোনা এলাকার রিকশা চালক জমশেদ আলী জানান, টানা এক ঘণ্টা রিকশা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। গরমের জন্য প্রাণ হাঁপিয়ে উঠছে। সে কারণে সামান্য রিকশা চালাতে গিয়েই হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে।
সপ্তা ধরে চলছে লোডশেডিং। দিনরাত ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার খেলা চলে ১৫ থেকে ২০ বার। ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে সেচ দিতে না পারায় মাঠের জমি যাচ্ছে ফেটে। আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেনে এই অঞ্চলের কৃষকরা।

সমিতির আওতায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফপিক আওয়ারে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় গড়ে ৫৫ থেকে ৫৭ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায় গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিকআওয়ারে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ৫৫ থেকে ৫৯ মেগাটওয়াট। বরাদ্দ ৩৫ থেকে ৩৭ মেগাওয়াট। ফলে দুই সময়েই চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে ১০ থেকে ১৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

গোদাগাড়ীর পলাশী গ্রামের কৃষক কেএম সাজেদুজুর রহমান খান জানান, মৌসুমের শুরু থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়েছে কৃষক। তিনি অর্ধেক জমিও রোপন করতে পারেননি। যে জমিগুলোতে ধান রোপন করেছেন সেগুলোতে পানির সমস্যায় পড়েছে। ধানে সঠিক সময় পানি না দিতে পারলে উৎপাদনে ব্যর্থ হবে কৃষক।

এদিকে, তীব্র গরমের কারণে কলেরা, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। তারা বেশি বেশি পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি খাবার গ্রহণে সতর্ক ও সংযমী হতে বলেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে খাবারে দ্রুত পচন ধরছে। সেই খাবার খেয়েও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাস্তাঘাট ও ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর শরবত পান করেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

2 thoughts on “খরায় পুড়ছে রাজশাহী অঞ্চল

Comments are closed.