‘খুলনার দ্বিগুন ব্যবধানে রাজশাহীতে আ.লীগের মেয়র হবে’

রাজশাহী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশনে যে পরিমান ভোটে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন রাজশাহীতে তার চেয়ে দ্বিগুন ভোটের ব্যবধানে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটকে বিজয়ী করে মেয়র নির্বাচিত করা হবে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন চিত্র ‘দিন বদলের দিন’ এর মোড়ক উন্মোচন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শাহরিয়ার আলম।

শনিবার নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে যে ভাবে মাথা উচু করে দিয়েছে আমরা তা ধরে রাখতে চাই। এ জন্য শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে যেতে হবে। ফলে নৌকার বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। দলের প্রতিটি কর্মীকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র জনগণের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।’

শাহরিয়ার বলেন, সামনে সিটি করপোরেশন ভোট। আর সময় নেই। সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে ভোটের মাঠে নামতে হবে। খুলনায় যে পরিমান ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে, রাজশাহীতে তার দ্বিগুন ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে বিজয়ী করে খায়রুজ্জামান লিটনকে মেয়র নির্বাচিত করবো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কখনো হারাতে পারবে না। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠায় রাসিক নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনকে জয়ী করতে হবে। রাজশাহীবাসী একবার ভুল করেছে, এবার যেন ভুল না হয়। নিজেদের মধ্যকার সব মনোমালিন্য ভুলে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে রেকর্ড পরিমাণ আসনে জয়ী করতে হবে।

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ৭৫’র পর প্রতিক্রিয়াশীলরা রাজশাহী অঞ্চলের মানুষকে শোষণ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। ৯৬ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যেন সে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সবাই একসাথে কাজ করলে রাসিক নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব। রাজশাহীর ৬টি আসন ও বিভাগের ৩৯টি আসনে জয়ী হতে হলে সিটি কর্পোরেশনে জয়ের বিকল্প নেয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা যেভাবে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের সাথে তাকে গ্রহণ করেছিলাম এখন আমাদের তেমনই ঐক্য দরকার। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাই মিলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করব। জননেত্রী শেখ হাসিনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনকে মনোনীত করেছেন। তিনি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। নির্বাচনে তাকে জয়ী করা আমাদের কর্তব্য।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক উপাচার্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা অদ্যাপক সাইদুর রহমান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন নেসা তালুকদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু, রাজশাহী জেলা বার কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান আলী, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আখতার মিতা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রানা, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ খান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আখতার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন