গাবতলী থেকে সিরাজগঞ্জ ১৫ ঘণ্টায়

জাতীয়

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে এখনো কচ্ছপের গতিতে চলছে গাড়ি। বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগেরও কোনো শেষ নেই বলে জানান ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীরা।

তবে পুলিশের দাবি এ মহাসড়কে দুপুরের পর থেকে স্থায়ী কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের মুলিবাড়ি, কড্ডার মোড়, নলকা এলাকায় পরিবহন চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান অস্বস্তি ও বিড়ম্বনার কথা।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বিজনেস ক্লাসিক পরিবহনের যাত্রী বেসরকারি চাকরীজীবী মাসুম ও মোখলেসুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টায় তারা কল্যাণপুর থেকে রওনা দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। ১৫ ঘণ্টায় মাত্র ১৬০ কিলোমিটার পথ তারা পারি দিয়েছেন।

এ পরিবহনের চালক ফারুক বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাপক জ্যাম ছিল। দুপুর ১২টার দিকে তারা সেতু পার হন। সেতুর পর থেকে তীব্র যানজট না থাকলেও কচ্ছপ গতির কারণে মাত্র ১৯ কিলোমিটার রাস্তা আসতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা।

মিনি ট্রাকে অর্ধশতাধিক গার্মেন্টস কর্মী যাত্রী নিয়ে রংপুর যাচ্ছিলেন চালক আল-আমিন। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ট্রাক নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে রওনা হন তিনি। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নলকা মোড়ে পৌঁছেছেন।

লাব্বাইক পরিবহনের যাত্রী জসিম, কাদের সোহাগ, লতিফা, জেবুন্নেছা, ট্রাক চালক বাদল, বাস সুপারভাইজার ইউসুফ, হেলপার রুবেলসহ অনেকেই জানান তাদের দুর্ভোগের কথা।

ট্রাকের যাত্রী সুজন, সিরাজ, কবির ও সুমন বলেন, টানা রোদ আর তীব্র গরমের মধ্য দিয়ে আমরা দেশের বাড়ি যাচ্ছি। সেতুর পূর্বপাড়ে গাড়ি যেন চলছিলই না। সেতু পার হওয়ার পর ৩০ সেকেন্ড গাড়ি চললে ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবেই চালাতে হচ্ছে গাড়ি।

তারা বলেন, ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত আসতে স্বাভাবিকভাবে আড়াই থেকে তিনঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু তারা ১২/১৪ ঘণ্টাতেও সিরাজগঞ্জ অতিক্রম করতে পারেননি। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা ফোর লেন মহাসড়ক হলেও যানজট কমছে না বলে দাবি তাদের।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে এসে যানজট কিছুটা কম হলেও পিঁপড়ার গতিতে চলছে গাড়ি। এতে প্রতি এক কিলোমিটার যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট করে সময় লাগছে।

প্রচণ্ড গরম তার ওপর প্রখর রোদে চরম অস্বস্তির মধ্য দিয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের এমন হাজার হাজার যাত্রীদের।

সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক মো. হাবিবুন্নবী বলেন, মহাসড়কে গাড়ির প্রচুর চাপ রয়েছে। এতে যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। অনেকটা শ্লথ গতিতেই চলতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। তবে স্থায়ী কোন যানজট নেই বলে তিনি জানান।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর