গোদাগাড়ীতে ত্রাণের দাবিতে কর্মহীন হোটেল শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে খাদ্য সামগ্রীর জন্য কর্মহীন হোটেল শ্রমীকরা বিক্ষোভ করেছে। বুধবার সকাল ৯ টার সময় গোদাগাড়ী ডাইংপাড়ায় অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাটানো শ্রমিকরা কোন খাদ্য সামগ্রী না পেয়ে এ বিক্ষোভ করে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ও জনসমাগম এড়াতে জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলার সকল হাট- বাজার, হোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ সব ধরনের দোকান -পাট বন্ধ ঘোষণা করেছে তবে ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রীর দোকান খোলা রেখেছে প্রশাসন ।

গত ২৩ দিন ধরে হোটেল মালিকরা তাদের হোটেল বন্ধ রাখার কারণে কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এসব হোটেল শ্রমিকরা। অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাটালেও পাইনি কোন প্রকার সরকারী বা বেসরকারী সহায়তা। কেউ রাখেনি তাদের খোঁজ খরব। ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে খাদ্য সামগ্রীর দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেছে।

গোদাগাড়ী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক সমিতি সুত্রে জানা যায়, শুধু গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ১৫০ জন হোটেল শ্রমিক রয়েছে এবং উপজেলায় রয়েছে আরও প্রায় কয়েক শতাধিক শ্রমিক। সব হোটেল বন্ধ থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ে তারা। ভুক্তোভোগিদের অভিযোগ, গত ২৩ দিন ধরে হোটেল বন্ধ থাকার পরেও জনপ্রতিনিধি বা কেউ রাখেনি তাদের কোন খোঁজ খবর, পইনি তারা কোন সরকারি বেসরকারি সহায়তা।

এবিষয়ে হোটেল শ্রমিক আব্দুল্লাহ জানান, ‘হামরা কি মানুষ লই, হামার প্যাটে কি খাবার লাগে না, হামরা পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি । সবাইকে সরকার ও চেয়ারম্যান নেতারা খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছে হামারাকে সহযোগিতা করে না । হামরা করোনায় না খাইয়া মরিবো যদি হামারঘে কোন ব্যবস্থা না করে।’

হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জিয়াউর রহমান জানান, গোদাগাড়ীতে অনেক হোটেল শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আমরা কাজ করতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের কেউ কোনও সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। আমরা যার কাছে যাচ্ছি তারাই অন্য কাউকে দেখিয়ে দিচ্ছে। আমার এখুন কার কাছে যাবো কোনও পথ না পেয়ে বসে আছি। সরকার আমাদের মুখের দিকে একটু তাকালেই না খেয়ে মোরবোনা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন