গোদাগাড়ীতে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক দম্পাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা তারা আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সেখপাড়া বারোমাইল গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সনি ইসলাম (২৫) ও তার স্ত্রী নিপা খাতুন (২১)। সনি মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন। নিপা উপজেলার ফরাদপুর স্কুলপাড়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে।

প্রতিবেশীরা জানায়, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সনি। আগের দু’ স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর প্রায় এক বছর আগে নিপাকে বিয়ে করেন তিনি। সনির মায়ের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিপার প্রায়ই ঝগড়া হতো। শনিবার (২১ অক্টোবর) রাতেও তাদের ঝগড়া হয়। পরে নিপা তার শাশুড়ি রাগ করলে তিনি তার বাবার বাড়ি চলে যান।

রোববার সকালে কৃষিকাজে মাঠে চলে যান শ্বশুর শহিদুল। এরপরই ফাঁকা বাড়িতে প্রথমে আত্মহত্যা করেন নিপা। পরে তা দেখে হয়তো সনিও আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের ধারণা।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি জানান, নিপার মরদেহ ঘরের মেঝেতে ও ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সনির মরদেহ ঝুলছিল ঘরের তীরের সঙ্গে। নিপার গলায়ও ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, নিপা প্রথমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তার মরদেহ নামিয়ে সনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।

ওসি হিপজুর আলম মুন্সি আরও জানান, দুপুরে নিপার খালা সনির বাড়ি বেড়াতে আসেন। তিনিই প্রথমে দু’জনের মরদেহ দেখতে পান। এরপর ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে তিনি নিজেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর দু’জনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বিকেলে পৌনে ৫টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য দম্পতির মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হবে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে অন্য কিছু পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা

খবরঃ বাংলানিউজ