গোদাগাড়ীতে নিহত পাঁচ জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫ জঙ্গির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ বহনের জন্য জঙ্গিবাড়ির মুখে দু’টি নসিমন নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া একটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আনা হয়েছে একটি জেনারেটরও।

তবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। তারা ঘটনাস্থলে এলে ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালানোর কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকাল ৮টা ৫০মিনিটে আস্তানা থেকে বের হয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা এ আত্মাহুতি দেন।

রাজশাহীর সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সদর সার্কেল) একরামুল হক জানান, ঘটনার সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী, গোদাগাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) উৎপল কুমার ও কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম আহত হন।

এছাড় আত্মঘাতী বোমা শরীরে বেঁধে জঙ্গিরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গোদাগাড়ী সাব-স্টেশনের ফায়ার সার্ভিস কর্মী আব্দুল মতিনকে (৪৯) বল্লম দিয়ে খুঁছিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই আস্তানা থেকে  সুমাইয়ার ছেলে জোবায়ের (০৮) ও আতিয়া (৩ মাস) নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জঙ্গিরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (৫০) তার স্ত্রী বেলী বেগম (৪৫), ছেলে আল আমিন (১৮), সোয়াহেব ওরফে আশরাফুল (২২) মেয়ে কারিমা খাতুন (২৪)।

ঘটনার পর সাজ্জাদের বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৩২) বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বসে থাকেন। অবশেষে সকাল ১১টার দিকে পুলিশে কাছে আত্মসমর্পণ করেন ঢাকায় বন্দি থাকা জঙ্গি জহুরুলের স্ত্রী ও সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিফজুর আলম মুন্সি জানান, ৬ মাস আগে সুমাইয়ার স্বামী জহুরু ইসলামকে (৪৮) জঙ্গি সন্দেহে চর মানিকনগর থেকে আটক করে রাজশাহী ডিবি পুলিশ। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে ডিবি সদর দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে শ্বশুর সাজ্জাদের বাড়িতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১১ মে) ভোর ৫টা থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বেনীপুর মাছমারা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। এরপর থেকেই ওই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা।

ওসি হিফজুল আলম মুন্সি বলেন, পুলিশ সদর দফরের দেওয়া তথ্যে তারা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। বুধবার (১০ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই বাড়িটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে ৫/৬ জন জঙ্গি থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ওই বাড়ির মালিক হচ্ছেন সাজ্জাদ হোসেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করেন।

দুই মাস আগে মাঠের মধ্যে সাজ্জাদ ওই বাড়িটি তৈরি করেছেন। তবে তার দুই ছেলে আল আমিন ও সোয়াহেব কৃষি কাজ করে এবং সাজ্জাদ ফেরি করে গ্রামে গ্রামে কাপড় বিক্রি করে বলে জানান গোদাগাড়ী থানার এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওসি বলেন, ভোর ৬টা থেকে একাধিকবার ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার জন্য হ্যান্ড মাইকে জঙ্গিদের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু কেউ বের হয়ে আসেনি। পরে সকাল ৯টায় ওই গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ।

তবে এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে জটলা করছেন। দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ তাদের তাড়া করছেন। এতে পড়ে গিয়ে অনেকে আহতও হচ্ছেন।

খবরঃ বাংলানিউজ