গোলাম আযমের স্ত্রী-স্বজনকে ভিআইপির মর্যাদা কেন? – হাইকোর্ট

অন্যান্য খবর জাতীয়

wpid-51087_court.jpg
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনদের হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেন ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না তা জানিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিমানের সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে হলা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান, ডিএমপি’র উত্তরা জোনের ডিসি, বিমানবন্দর থানার ওসি, বিমানবন্দর পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হোসেন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইফতেখার জাহান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব দেলেনা বেগমকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গোলাম আযমের স্ত্রী ও ভাতিজা ফেরত গেল বিমানবন্দর থেকে শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মুনতাছির উদ্দিন আহমেদ। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে রুল জারি করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়,জামায়াতের সাবেক আমির,যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মরহুম গোলাম আযমের স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম ও তার ভাতিজা লুৎফুল কবির সৌদি আরব যাবার সময় আটকে দেয়া হয়। বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি দিয়ে ইমিগ্রেশন করানোর সময় তাদের আটক করা হয়।

পরে তাদের মুচলেকা রেখে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেয়া হয়। বিষয়টি গোয়েন্দারা যখন নিশ্চিত হন,শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান তাদের পরিচয় গোপন রেখে ভিআইপি মর্যাদার ব্যবস্থা করেন, তখন এ নিয়ে তোলপাড় চলে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সৌদি আরব যাবার জন্য বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন সৈয়দা আফিফা আযম ও তার ভাতিজা লুৎফুল কবির। সঙ্গে গোলাম আযমের ছেলে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আযমীর স্ত্রী তাসনীম আঞ্জুম ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব দেলেনা বেগম। তাঁরা দ্রুত হেঁটে চলে যান ভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে।

এ সময় তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় দ্রুততম সময়ে প্রটোকল সম্পন্ন করার কাজে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইফতেখারকে ইমিগ্রেশনে পাঠান পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান। ততক্ষণে লুৎফুল কবিরের ইমিগ্রেশন সিল মারার কাজ শেষ। এরপর যখন আফিফা আযমের পাসপোর্ট হাতে নেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, তখন সেখানে ছুটে যায় একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাতে এ পাসপোর্ট নিয়ে আর অগ্রসর হয়নি ইমিগ্রেশন। পরে দেখা যায়, আফিফা আযমসহ সব যুদ্ধাপরাধীদের স্ত্রী, পুত্র,কন্যা ও নিকটাত্মীয়দের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে’।