ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়েছে রাজশাহী

রাজশাহী

ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে আছে রাজশাহী। প্রকৃতির নিয়মে সূর্যোদয় হয়েছে ঠিকই। কিন্তু কুয়াশার কারণে তার মুখ এখনও দেখা হয়নি পদ্মাপাড়ের জনপদের মানুষগুলোর।

শনিবার (০৪ জানুয়ারি) ঘড়ির কাঁটায় সময় যখন সকাল সাড়ে ৯টা তখনও রাজশাহীর প্রকৃতি ছিল কুয়াশায় ঢাকা। সূর্যি মামারও সাধ্য হয়নি ঘন কুয়াশার সেই বৃত্ত ছেদ করার। তাই সবুজ বৃক্ষরাজিও যেন আজ ধোঁয়াচ্ছন্ন রূপ ধারণ করেছে। শহরের পিচঢালা সড়কগুলোও ভিজেছে পৌষের শিশিরবিন্দুতে।

দৃষ্টিসীমা ৫০ গজের মধ্যে নেমে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে গতি কমেছে ট্রেনের। ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে চলছে। এতে মানুষের নিরাপদ বাহন ট্রেনের আরামদায়ক ভ্রমণের স্বাদ এখন তিক্ত হয়ে উঠেছে। রেলভ্রমণ নিয়ে জনদুর্ভোগ গিয়ে ঠেকেছে অসহনীয় পর্যায়ে।

ঘন কুয়াশার কারণে রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-রাজশাহী, খুলনা-রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর আর সময় ঠিক রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাজশাহী-ঢাকা ও ঢাকা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর শিডিউল নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনা এড়াতে ভোর থেকে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বেলা যতই বাড়ছে কুয়াশাও যেন প্রকৃতির সবকিছুকে কোলের মধ্যে টেনে নিচ্ছে। টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সামান্য বিরতি চলছে গত তিনদিন থেকে। এতে সকাল থেকেই রৌদ্রোজ্জ্বল থাকছিল রাজশাহী। কিন্তু শনিবার সকালে হঠাৎই আবার বেড়েছে ঘন কুয়াশার দাপট।

আবহাওয়া অফিস বলছে, শনিবার রাজশাহীতে সূর্যোদয় হয়েছে ৬টা ৫০ মিনিটে। তবে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বেলা যতই বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্বও যেন তত গভীর হচ্ছে। এরওপর আবারও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হাড় কাঁপানো শীতে অসহায় হয়ে পড়ছেন শহরের পথে-ঘাটে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলো।

টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শেষে রাজশাহীতে গত বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠেছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

এদিন রাজশাহীতে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে বৃষ্টির পর শনিবার রাজশাহীর তাপমাত্রা আবারো কমেছে। রাজশাহীতে সকাল ৭টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ গতদিনের তুলনায় একলাফে তাপমাত্রা কমে এসেছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ কামাল উদ্দিন বলেন, জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছিল। তবে আরেকটা শৈত্যপ্রবাহ আসার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আবারও এক অংকে নেমে আসবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।

এতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে নিম্নবিত্ত মানুষজন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ঠাণ্ডার সঙ্গে গত কয়েকদিন বৃষ্টি যোগ হওয়ায় ছিন্নমূল ও ফুটপাতে থাকা মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই কাগজ ও খড়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাচ্ছেন।

তবে অব্যাহতভাবে এমন ঘন কুয়াশার পড়লে কৃষিতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এ অঞ্চলের কৃষক। বরাবরই শীতে বোরো বীজতলা ও রবি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে কোল্ড ইনজুরি ও পচনসহ মড়ক বেড়ে যায়। তবে পরস্থিতি মোবাবিলায় এখন যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক।

ঘন কুয়াশায় আবাদ রক্ষায় করণীয় নিয়ে মাসজুড়ে তারা রাজশাহীর কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ