চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূমিকম্প, আতঙ্কিত হয়ে দু’জন হাসপাতালে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের আতঙ্ক জনমনে প্রকটভাবে বিরাজ থাকার মাঝেই আবারও রোববার দেশের অন্যান্যস্থানের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে তা শনিবারের মত র্দীঘস্থায়ী ও প্রবল ছিল না।

ভুমিকম্পে আতংকিত হয়ে ‘মাথা ঘুরে’ অসুস্থ্য হয়ে ২ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
দুপুর ১ টা ১০ মিনিটের দিকে আবারও ভূমিকম্প শুরু হয়। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি দোকানপাট ছেড়ে রাস্তায় ও মাঠে নেমে আসে। অনেকেই চরম উৎকন্ঠা নিয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে।

শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নেমে আসে তাদের মাঠে। বিভিন্ন সড়কগুলো আতংকিত মানুষে ভড়ে যায়।
শনিবারের প্রবল ভূমিকম্পের আতংকের কারণে রোববার দুপুরের ভূমিকম্প থেমে যাবার পরেও বহু মানুষ ঘরে ফিরে যায় অনেক দেরীতে। সাধারণ মানুষ জানিয়েছে, রোববারের ভূমিকম্প ছিল শনিবারের ভূমিকম্পের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম শক্তিশালী।

এদিকে, ভূমিকম্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বহুতল কয়েকটি ভবন হেলে পড়েছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে মর্মে প্রচার হলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক আরো ছড়িয়ে পড়ে। শহরের গাবতলা মোড় সংলগ্ন ৫ তলা ভবন, পুরতান বাজারের সিটি ব্যাংক সংলগ্ন ভবন, আরামবাগের ৪ তলা ভবন, পোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ৪ তলা ভবনের শত শত মানুষ ভিড় করে। বিশেষজ্ঞ না হয়েও অনেকেই নিশ্চিতভাবে প্রচার করে ওই ভবনগুলো হেলে পড়ার ব্যাপারে।

অন্যাদিকে, শনিবারের মত রোববারও ভূমিকম্পের পর জেলা বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।

জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও ভূকম্পন অনুভুত হওযার খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জয়নব আক্তার শোভা জানান, মাত্র ২ জন অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে এসেছিল। সামান্য অসুস্থ্য হওয়ার কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পে অসুস্থ্য হওয়া নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই’।

নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডু থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে কোদারী এলাকায় রোববারের এই ভুমিকম্পের উৎপত্তি। উপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৬.৭। এর আগে শনিবার নেপালে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। যার আঘাত এসে লাগে বাংলাদেশ ও ভারতে।