চাঁপাই-রাজশাহী মহাসড়কের বেহাল দশা কি কাটবে না!!!

গোদাগাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

নামে মহাসড়ক হলেও বাস্তবে ভাঙাচুরা, খানাখন্দে ভরা রাস্তা। ঢাকা-চাঁপাই মহাসড়কের এমনই দশা। যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স’লবন্দরে যাতায়াতের একমাত্র পথ। এই মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়ে গতকালের সোনালী সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সোনামসজিদ স’লবন্দর থেকে মাল বোঝাই ট্রাকের অবিরাম চলাচল যে সড়কে, নাম তার যাই হোক, যথেষ্ট মজবুত ও টেকসই না হলে কি চলে? কিন’ দুঃখের বিষয়, যারা সড়ক নির্মাণ ও দেখভালের দায়িত্বে আছেন তাদের অবহেলা ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজও হয়নি, ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে গোদাগাড়ী পর্যন্ত সড়কটির ১৭ কিলোমিটার জায়গা দেড় বছর ধরে খানা-খন্দে ভরে আছে। এখানে গাড়ি চলে ‘হেলিয়া-দুলিয়া’। ফলে যন্ত্রাংশ ভাঙে, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে, খাদে গাড়ি পড়ে ও পণ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে লাখ লাখ টাকার ৰতি গুনতে হয়। গড়ে প্রতিদিন কমপৰে ১৫ হাজার গাড়ি চলে যে ব্যস্ততম সড়কে তার দেখভালে এমন অবহেলা ‘চোখ থাকিতেও অন্ধ’ দশা ছাড়া আর কি!। সড়ক বিভাগ কি ঠিক এ রকম অবস’ার মধ্যে পড়েছে?

এই দুর্ভোগের শিকার শুধু পণ্যবাহী যানবাহনই নয়, যাত্রীবাহী এমনকি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, গতি হারিয়ে মুমূর্ষু রোগীর বিপদ ঘনিয়ে আসে। এসব নিয়ে ছবিসহ খবর ছাপা হয়, লেখালেখি হয় কিন’ কারো কানে পানি ঢুকে না। পরিসি’তির উন্নতিও ঘটে না। কর্তৃপৰের মুখে সেই পুরানো বুলি, টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰকে জানানো হয়েছে। অচিরেই কাজ শুর্ব হবে।
কাজ নিশ্চয়ই হবে। পিচ-পাথরের কার্পেটিংও হবে হয়তো। কিন’ সেটা কতদিন টিকবে তার গ্যারান্টি কে দেবে? সড়ক বিভাগের সংশিৱষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সড়ক নির্মাণ ও মেরামতকারী ঠিকাদারদের কাজের জবাবদিহি বা তদারকির ব্যবস’া আছে কি-না আমাদের জানা নেই। যদি থাকেই তবে মহাসড়কের এমন দুরবস’া দেখতে হয় কেন?

দেশের অব্যাহত উন্নতির ধারায় যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস’ার উন্নয়ন যেখানে গুর্বত্ব পাওয়ার কথা সেখানে সড়ক যোগাযোগের বেহাল চিত্র খুবই বেমানান। এ জন্য দুর্নীতির কথা বলা যেতেই পারে, কিন’ আসলে একে উন্নয়নবিরোধী অপরাধ গন্য করাই স্বাভাবিক। এই দৃষ্টিতে দেখে বিচার না করলে উদ্ভুত পরিসি’তির পরিবর্তন আশা করা যায় না।
চলমান উন্নয়নের গতি স্বাভাবিক রাখতে হলে সড়ক যোগাযোগ মসৃণ রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্র্বত ব্যবস’া নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা কাটবে না।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ