চারঘাটের পদ্মায় অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি

চারঘাট

হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রমত্তা পদ্মা নদীসহ পদ্মা শাখা বড়াল নদী। প্রতদিনিই অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে পান। এতে আতঙ্কতি হয়ে উঠছেনে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নদীরতীরে বসবাসকারী কয়েক হাজার বসতি। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও যেকোন সময় নদীর বুকে তলিয়ে যেতে পারে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার ঘর বাড়ী। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পানি বপিদসীমা অতক্রিম করতে পারে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন র্বোড (পাউবো)। তবে এখনও তেমন কোন বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান।

চারঘাট উপজেলার পদ্মা নদীর তীর ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই পদ্মা নদীতে বাড়তে শুরু করেছে পানি। এভাবে দিন দিন পানি বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার বাড়ী-ঘর। যে কোন সময় তলিয়ে যেতে পারে এসব প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ী-ঘর। সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টাঙ্গন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহাপুর মসজিদ, পিরোজপুর ও রাওথা এলাকা রয়েছে সব চেয়ে বেশী হুমকির মুখে।

উপজেলার ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম রতন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বেশীর ভাগ অংশ পদ্মার ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। আবার নতুন করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গনের মুখে পড়ে ভিটে মাটি হারানোর আশঙ্কা। তিনি বলেন, যেভাবে পদ্মায় গত কয়েক দিন ধরে অসাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে টাঙ্গন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহাপুর এলাকার একটি মসজিদসহ কয়েক হাজার বাড়ী-ঘর এখন রয়েছে হুমকির মুখে। এছাড়াও উপজেলার রাওথা এলাকায় দেথা দিয়েছে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙ্গন। অভিযোগ রয়েছে রাওথা এলাকার একটি সংঘবদ্ধদল অবৈধ ভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালূ উত্তোলনের ফলে সেখানে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন।

পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে পিরোজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ভিটে মাটি হারিয়ে আজ তীরবর্তি এলাকার মানুষ অনেকটা অসহায়। তার উপর এবার যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আবারো মানুষের শেষ আশ্রয় টুকুও হয়ত বিলিন হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিকই কিন্তু এখনও তেমন বড় ধরনের হুমকির কারন হয়ে উঠেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ইউসুফপুর ইউনিয়নের টাঙ্গনে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে কোথাও তেমন হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষনিক ভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে এখনও হুমকি হিসেবে কোন ঘটনা ঘটেনি।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন