চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

নওগাঁ রাজশাহী বিভাগ

নওগাঁর সরকারি খাদ্য গুদামে চলতি মওসুমের চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মিলাররা বলছেন- প্রতি টন চালের বিপরীতে ডিসি ফুড অফিসে ৮০ টাকা ও খাদ্যগুদামে উৎকোচ দিতে হচ্ছে ৩৫ টাকা করে। পাশাপাশি নিম্ন মানের চাল গুদামে উঠছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কর্যক্রমের আওতায় নওগাঁ জেলায় এবার প্রায় ৬৪ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার। সে অনুযায়ী স্থানীয় খাদ্য বিভাগ প্রায় ১হাজার ২০০ মিলারকে চুক্তিবদ্ধ করেছেন।
এরই মধ্যে জেলার ১১ উপজেলায় মোট ১৮টি সরকারি খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মওসুমের চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ৩২ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করার চুক্তি করেছেন মিলাররা। কিন্তু খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বেঁধে দেওয়া উৎকোচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

সাধারন মিলাররা অভিযোগ করে বলেন, চুক্তির সময় ডিসি ফুড অফিস প্রতি টনে ৮০ টাকা করে উৎকোচ নিচ্ছেন। এছাড়া খাদ্য গুদামে চাল দিতে গেলে নানা অজুহাত দেখিয়ে সেখানকার কর্মকর্তারা টন প্রতি ৩৫টাকা করে প্রকাশ্যে উৎকোচ নিচ্ছেন। মিলারদের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃেন্দর যোগসাজশেই উৎকোচ আদায় করছেন। এতে অনেক মিলার নিম্নমানের চাল গুদামে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

রানীনগর উপজেলার হাজি চালকলের স্বত্ত্বাধীকারী হাজি গুলজার আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সরকার বেশি দামে চাল কেনায় মিলাররা এবার কিছুটা লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু প্রতি টনে খাদ্য বিভাগের লোকজনকে ১১৫ টাকা ও গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ করে আর লাভের কিছুই থাকছে না। তিনি আরো জানান, সরকারি গুদামে চাল দিতে গিয়ে প্রতি বছরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে উৎকোচ দিতে হয়। এবার মিল মালিক সমিতির জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ সেই উৎকোচের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আরো বেশি ধরা হয়েছে।

মহাদেবপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ ক’জন মিলার অভিযোগ করে জানান, উৎকোচ না দিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিতে গেলে বিনির্দেশ মানের হয়নি এমন অযুহাত দেখিয়ে চাল ফেরত পাঠাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এতে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া মিল মালিকরা এর সঙ্গে জড়িত থাকায় কোন প্রতিবাদও করা যাচ্ছে না। তারা আরো জানান, এবার শুধু বোরো মওসুমের চাল সংগ্রহ অভিযানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও বিভিন্ন ওসিএলএসডি কর্মকর্তারা প্রায় এক কোটি টাকার উৎকোচ পকেটে তুলছেন। এ বিষয়ে কেউ কোন কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম জানান, চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে যে অভিযোগ উঠেছে তা আমার জানা নেই। তবে প্রতি বছর যে ভাবে চাল সরবরাহ করা হয় এবারও একইভাবে সরবরাহ অভিযান চলছে। এদিকে মিলারদের এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন। চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম দূর্নীতি করা হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, যাদের চাল খারাপ পাওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে শুধু তারাই এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

সূত্র এবং কৃতজ্ঞতাঃ রাইজিংবিডি