চিনিকলের লোকসান ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ

রাজশাহী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশের সুগার মিলগুলোর অব্যাহত লোকসান ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রাথমিকভাবে নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগার মিল ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে বেছে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চিনিকলগুলোতে বহুমূখী উৎপাদনে আনতে হবে। শুধু চিনির ওপর নির্ভর করে বসে না থেকে লোকসান এড়ানো যাবে না। তাই এই মিলগুলোতে বিদ্যুৎ, মোলাসিস ও বর্জ্য সার উৎপাদন করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সকল সুগার মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের চিনি শিল্প ধ্বংসের কারণই হলো বিএনপি সরকার। ২০০২ সালে বিএনপির সরকার উৎপাদন বিকেন্দ্রীকরণের নামে প্রাইভেট সেক্টরে র-সুগার আমদানির কারণে দেশের চিনি শিল্পের আজ বেহাল অবস্থা। বিএনপি-জামায়াত শিল্পকে ধ্বংস করে আর আমরা শিল্প বাঁচায়, দেশের উন্নয়ন করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সুগার মিল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চিনিশিল্প খাদ্য করপোরেশন আয়োজিত আখচাষী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারি শিল্প ও কল-কারখানার লোকসান তার মন্ত্রণালয় বহন করবে না। একই সভা থেকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু আগামী ২০১৫-১৬ মাড়াই মৌসুম থেকে আখের মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭৫ টাকা করারও ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, ১৯৮০ সালে তৎকালিন সরকার আখ চাষিদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এতে আমার নির্বাচনী এলাকার এক আখ চাষি নিহত হন। বর্তমান সরকোরের চ্যালেন্সই হচ্ছে উন্নয়নের চ্যালেন্স। তাই সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন বর্তমান বাজারে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এই রুগ্ন চিনিকলকে সারাতে হবে। চিনিকলের অনেক জমি বেহাত হয়েছে। সেগুলো অতিসত্তর ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চত করতে হবে। পাশাপাশি বছরে শ্রমিকদের ১০ মাস বসিয়ে না রেখে কাজে লাগাতে হবে।

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আয়েন উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকোরের সময়ে দেশ যখন সভ্য, স্বচ্ছ ও উন্নত দেশ হিসেবে দুনিয়াতে পরিচিতি পাচ্ছে, তখন আমাদের শিল্প অলাভজনক হবে তা হতে পারেনা। আওয়ামী লীগ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পারলে চিনি শিল্পকেও লাভজনক করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে দেশ ও চিনি শিল্প ধ্বংসকারি বিএনপির আনা র-সুগার আমদানি বন্ধ করতে হবে। আর যদি সহসাই বন্ধ করা যায় তবে চড়ামূল্যে করারোপ করতে হবে। এমন করারোপ করতে হবে যেন তাদের দামদারিকৃত চিনির দাম দেশের আখ থেকে উৎপাদিত চিনির দামের বেশী হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান অতিথিকে প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের চিনি শিল্পকে ধ্বংস কারা করলো, কেন করলো তা আমাদের জানাতে হবে। তিনি আরো বলেন আখচাষিদের সহজ ও সুলভে ঋণ দিয়ে আখচাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ওই র-সুগারের হাড়গোড় মেশানো চিনির চেয়ে আমাদের উৎপাদিত চিনির মান অনেক ভাল। এছাড়াও এক কেজি, দুই কেজি চিনির প্যাকেট আকর্ষণীয় করতে হবে। অর্থাৎ এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের যা যা করা দরকার তাই করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল, বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি সংগঠনের সভাপতি এমপি মোজাহারুল হক প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল বাশার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, সংরক্ষিত আসনের এমপি আখতার জাহান, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায়ছারুল ইসলাম, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক জেলা মাজদার রহমান সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা জেবর আলী, আমিনুল হক, জেলা যুবলীগ সভাপতি আবু সালেহ, সাধারণ সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ সভাপতি আয়নাল হক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক শাহীনুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য ওমর ফারুক ফারদিনসহ দেশের ১৫টি সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আখচাষীরা।

সূত্র এবং কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন