চূড়ান্ত ফল: বিজেপি জোট ২২০, কংগ্রেস জোট ৬০

আন্তর্জাতিক

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে। নির্বাচন হওয়া ৫৪২টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৩৬ আসনের চূড়ান্ত ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ২২০ আসন, আর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে ৬০ আসন। এনডিএ জোটের ২০৪টি আসন পেয়েছে বিজেপি, আর ইউপিএ জোটের হয়ে ৩৯টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যরা পেয়েছে ৫৪ আসন এবং বিএসপি জোট পেয়েছে ২টি আসন। পাশাপাশি এনডিএ জোট এগিয়ে আছে ১০৬ আসনে এবং ইউপিএ জোট এগিয়ে আছে ২৮ আসনে। আর অন্যরা এগিয়ে আছে ৬৯ আসনে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল ৮টায় একযোগে ভারতজুড়ে ভোট গণনা শুরু হয়। চূড়ান্ত ফল দেরিতে আসতে থাকলেও দুপুরেই স্পষ্ট হয়ে যায় গতিপ্রকৃতি। ৫৪৩টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ২৭২ আসন প্রয়োজন হলেও খবর মেলে এনডিএ ৩০০ এরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এরমধ্যে কেবল বিজেপিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনের বেশি আসনে এগিয়ে আছে। চূড়ান্ত ফলও যেন তেমনই আসতে শুরু করেছে।

এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। একইভাবে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। এখন বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর বিজেপি সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু করবে।

এদিকে, ভোটে বিজেপির পক্ষে ফের রায় দেওয়ায় ভারতবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলটির সভাপতি অমিত শাহ। আর এ জয়কে ‘ভারতেরই জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে নির্বাচনে জয়ে নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির নেতৃত্বকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিজেপি অভিনন্দন পাচ্ছে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকেও।

সরকার চালানোর জন্য বিজেপিকে এমন ‘ম্যান্ডেট’ দেওয়ায় দুপুরে এক টুইটার বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এগোই, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই। আমরা একসঙ্গে দৃঢ় ও অংশগ্রহণমূলক ভারত গড়ে তুলি। আবারও ভারতই জিতে গেলো। #বিজয়ীভারত।’

এর আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তার টুইটার বার্তায় ‘ধন্যবাদ’ জানান ভারত তথা ভারতবাসীকে। ওই ছবিতে বিজেপির ‘পোস্টার’ মোদীর পাশেই অমিত শাহর ছবি দেখা যায়। বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘এই জয় পুরো ভারতের জয়। এই দেশের তারুণ্য দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের আশার আলো। এই মহাবিজয় নরেন্দ্র মোদীজি’র পাঁচ বছরের উন্নয়নমুখী দৃঢ় নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার প্রকাশ। আমি বিজেপির কোটি কর্মীদের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদীজিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’

লড়াইটা ছিল যে দু’জনের মধ্যে, নরেন্দ্র মোদী (ডানে) ও রাহুল গান্ধী (বাঁয়ে)

এদিকে বিরোধী নেতৃত্বের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ‘বিজয়ীদের’। যদিও সব কিছু পর্যালোচনা করে ফলাফলের ব্যাপারে নিজেদের মতামত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো লোকসভা নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা বিজেপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। মোদীর সঙ্গে যে আদর্শিক লড়াই তার চলে আসছে, তা একইভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ভোট গণনার পর ফলাফলে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে কংগ্রেস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাহুল তার প্রতিক্রিয়া দেন।

প্রথমেই তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি এই নির্বাচনে জিতেছেন। তাদের অভিনন্দন। জনগণ যাকে পছন্দ করেছে, তারাই সরকার চালাবেন, জনগণের পছন্দকে সম্মান করতে হবে। কারণ জনগণই রাজা, তারাই সবকিছু ঠিক করেন।’

নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, যে আদর্শিক লড়াইটা চলে আসছে, সেটা চলতে থাকবে।’

নির্বাচনে এমন ফলাফলের পেছনে কোনো কারণ দায়ী থাকলেও সেটাতে পড়ে না থাকার কথাই বলেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘যে ভুল হয়েছে, সেটাতে পড়ে থাকতে চাই না।’

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও এই ফলাফলে দলটির নেতাকর্মীরা ভীষণ হতাশ। খোদ কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর দিল্লির কার্যালয় দুপুরেও তালাবদ্ধ দেখা গেছে। যদিও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দলের প্রধান রাহুলের বাসভবনে গেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

অন্যদিকে বিশ্বনেতাদের মধ্য থেকে এরইমধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে শিনজো অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীকে।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয় পেয়ে সরকার গড়ে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির জোট এনডিএ। ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবারের মতো একক দল হিসেবে সরকার গঠনের মতো আসন পেয়ে যায় বিজেপিই। পদ্মফুল ফুটেছিল ২৮২ আসনে। বিজেপি জোটের অন্য দলগুলো পেয়েছিল ৫৫ আসন। অন্যদিকে আগের সরকার চালানো কংগ্রেস পায় মাত্র ৪৪টি আসন। তাদের জোটের দলগুলো পায় ১৫ আসন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৩৪ আসন। তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে পায় ৩৭ আসন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর