চেয়ারপার্টির দখলে পদ্মারপাড়

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীতে একটি চিড়িয়াখানা ও দুইটি পার্ক থাকলেও বিনোদন কেন্দ্র বলতে নগরবাসী প্রধানত বিশাল পদ্মার দীর্ঘ তীরকেই চিনেন। বিশার পদ্মা কখনই নগরীবাসীকে বিনোদন কেন্দ্রের অভাব অনুভব করতে দেয়নি। পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে নদীর দীর্ঘ এই তীরকে বহুদিন থেকেই সুসজ্জিত করার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ কাজে সগযোগীতা করে আসছে। তবে সুসজ্জিত এই নদীর পাড় এখন এক শ্রেণীর অবৈধ দখলদারদের কবলে। আর এই দখলদারদের কারণে নদী তীরের নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে আসা মানুষগুলোকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। পাড় দখলদারদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

সরেজমিনে নগরীর টি-বাঁধ এলাকা, লালনশাহ মুক্তমঞ্চ, পদ্মা গার্ডেনসহ কুমাড় পাড়া মুন্নজান স্কুলের কাছে নদীর ধারগুলোতে গিয়ে দেখা যায় স্থানগুলোতে লাল চেয়ার বিছিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় চটপটি-ফুচকাওয়ালারা এই পর্যটন স্থান গুলোর বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে চেয়ার বিছিয়ে রেখেছে। ফলে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা তীরে বসে স্বাচ্ছন্দে নদীর নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে পাছে না। চটপটি বা ফুচকা না খেলে এই চেয়ার গুলোতে বসতে দেয়া হয় না। আবার কেও কেও চটপটি বা ফুচকা খাওয়ার বিনিময়ে চেয়ারে বসলেও খাবার শেষ হবার সাথে সাথে তাদেরকে উঠে যেতে বাধ্য করা হয়।

উপশহর থেকে টি-বাঁধে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা নীলিমা ইয়াসমিন বলেন, রাজশাহীতে এমনিতেই বেড়ানোর জায়গা কম। তবে এই বিশাল পদ্মা আমাদেরকে কখনই সেই অভাব বুঝতে দেয়নি। ছুটির দিনসহ বিভিন্ন দিবসে বিকেলে বেড়ানোর জন্য আমরা নদীর ধারকেই বেছে নেই। তবে নদীর ধারের পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন সেখানে বসে সময় কাটানোর পরিবেশ নেই। বিভিন্ন চটপটি-ফুচকাওয়ালারা এই পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছে। এদের কারণে নদীর ধারে পরিবার নিয়ে নিরিবিলি স্বাচ্ছন্দে দুদন্ড বসার উপায় নেই। এখন নদীর তীরে তাদের চেয়ার ছাড়া কোন ফাঁকা জায়গা নেই!

একই অভিযোগ করে আসলাম সরকার বলেন, বৌ-বাচ্চা নিয়ে নদী তীরে আসতে এখন খারাপ লাগে এই ব্যবসায়ীদের গায়েও ঠিকমতো কাপড় থাকে না। তাছাড়া সবাই বাইরের খাবার খায় না। নদীর তীরে আসলে এই ব্যবসায়ীদের চেয়ারের কারণে নদীর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করা য়ায় না। তারা রিতি মতো লাল-হলুদ চেয়ার বিছিয়ে ফাঁদ পেতে বসেছেন। চেয়ারে না বসলে বা খাবার অর্ডার না দিলে তারা বিভিন্ন কায়দায় পর্যটকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে স্থান ত্যাগে বাধ্য করে।

এদিকে বিভিন্ন সময় তাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তারা নিজেদের দারিদ্রতার অজুহাত সামনে তুরে ধরে। ফলে স্থানীয় প্রশসনও তাদের সেই অজুহাতে ভুলে গিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসে। নয়তো কিছুদিন পর আবার নদী তীরে চেয়ার বিছিয়ে তারা নিজেদের দৌরাত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন